শ্রমবাজার: অধ্যায় 5 গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর (HSC অর্থনীতি প্রথম পত্র )



 HSC অর্থনীতি প্রথম পত্র পঞ্চম অধ্যায়

         অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

                       শ্রমবাজার


HSC Economics First Paper, Prombazar Comprehension Questions and Answers


1 )প্রথম অধ্যায় মৌলিক অর্থনীতির ধারণা 

2 )দ্বিতীয় অধ্যায় উৎপাদন ব্যয় ও আয় 

3) তৃতীয় অধ্যায় উৎপাদন ব্যয় ও আয় 

4) পঞ্চম অধ্যায় শ্রমবাজার

 

১৭. প্রশ্ন:-শ্রমের গতিশীলতা বলতে কী বোঝ?

উত্তর:-এক স্থান থেকে অন্য স্থানে, এক পেশা থেকে অন্য পেশা গ্রহণ, কিংবা একই পেশায় এক স্তর থেকে অন্য স্তরে উন্নত হওয়াকে বোঝায়। একজন শ্রমিক তার নিজস্ব প্রয়োজন এবং স্বার্থে এক পেশা থেকে অন্য পেশা গ্রহণ, এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন, একই কাজে এক শিল্প থেকে অন্য শিল্পে গমন করতে পারে। এ ধরনের পরিবর্তন হলো শ্রমের গতিশীলতা। যেমন-একজন শ্রমিক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি থেকে ঔষধের ফ্যাক্টরিতে কাজ নিতে পারে, অথবা চট্টগ্রামের শ্রমিক ঢাকায় গিয়ে কাজ করতে পারে।

৯৮. প্রশ্ন:-আর্থিক মজুরি ও দাম স্তর সমান হারে পরিবর্তন হলে প্রকৃত মজুরির কোন ধরনের পরিবর্তন হবে কি না ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:-আর্থিক মজুরি ও দাম স্তর সমান হারে পরিবর্তন হলে প্রকৃত মজুরি কোন পরিবর্তন হবে না। প্রকৃত মজুরি বলতে আর্থিক মজুরির ক্রয় ক্ষমতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সমষ্টিকে বোঝায়। এখন অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা স্থির থেকে আর্থিক মজুরি ও দাম স্তর একই হারে বাড়লে বা কমলে ক্রয় ক্ষমতা স্থির থাকে। এর ফলে প্রকৃত মজুরি ও স্থির থাকে। তাই বলা যায়, আর্থিক মজুরি ও দামি স্তর সমান হারে পরিবর্তিত হলে প্রকৃত মজুরির কোন ধরনের পরিবর্তন ঘটবে না।

৯৯. প্রশ্ন:-শ্রমের যোগান রেখা কখন বাম দিকে পশ্চাৎগামী হয়? বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর:-শ্রমের ব্যক্তিগত যোগান রেখা পাশ্চাত্য মুখী হয় কারণ মজুরি ও শ্রমের যোগান এর মধ্যে বিপরীত সম্পর্ক বিরাজ করে। শ্রমের মজুরি বাড়লে একজন শ্রমিক বেশি শ্রম দেয়। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মজুরি বৃদ্ধির সাথে শ্রমের যোগান বাড়বে। একপর্যায়ে মজুরি যখন অধিক হবে তখন শ্রমিক আরাম-আয়েশে মনোনিবেশ করবে। তখন শ্রমিক শ্রমঘন্টা কমিয়ে বিশ্রামের সময় বাড়লে শ্রমের যোগান হ্রাস পায়। তাই দেখা যায়, প্রথম অবস্থায় শ্রমের মজুরি ও যোগানের মধ্যে সম্মুখীন সম্পর্ক বিরাজ করলেও একটি নির্দিষ্ট সময় মজুরি বৃদ্ধির পর, মজুরি ও শ্রমের যোগান এর মধ্যে বিপরীত সম্পর্ক বিরাজ করে। এ কারণে শ্রমের ব্যক্তিগত যোগান রেখা পশ্চাদমুখী হয়।

১০০. প্রশ্ন:-আর্থিক মজুরি ও দাম স্তর সমান হলে পরিবর্তন হলে প্রকৃতি মজুরির কোন ধরনের পরিবর্তন হবে কিনা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:-আর্থিক মজুরি ও দামস্থর সমান হারে পরিবর্তন হলে প্রকৃত মজুরি কোন পরিবর্তন হবে না। প্রকৃত মজুরি বলতে আর্থিক মজুরির ক্রয় ক্ষমতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার সমষ্টিকে বোঝায়। এখন অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা স্থির থেকে আর্থিক মজুরি ও দাম স্তর একই হারে বাড়লে বা কমলে ক্রয় ক্ষমতা স্থির থাকে। এর ফলে প্রকৃত মজুরি ও স্থির থাকে। তাই বলা যায়, আর্থিক মজুরি ও দামি স্তর সমান হারে পরিবর্তিত হলে প্রকৃত মজুরির কোন ধরনের পরিবর্তন ঘটবে না।

১০১. প্রশ্ন:-আর্থিক মজুরি নয়, প্রকৃত মজুরির মাধ্যমে শ্রমিকের প্রকৃত অবস্থা জানা যায়-ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:-আর্থিক মজুরির পায় ক্ষমতা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধার ভিত্তিতে প্রকৃত মজুরির পরিমাণ করা হয়। শ্রমিক তার আর্থিক মজুরি দ্বারা যে পরিমাণ দ্রব্য সামগ্রী ও সেবা ক্রয় করতে পারে এবং কর্মস্থল থেকে অন্য যেসব সুযোগ-সুবিধা পায় তার সমষ্টিকে প্রকৃত মজুরি বলে। শ্রমিকের প্রকৃত অর্থনৈতিক অবস্থা প্রকৃত মজুরের উপর নির্ভরশীল। আবার প্রকৃত মজুরির দাম স্তর দ্বারা প্রভাবিত হয়। ফলে প্রকৃত মজুরি রাস বা বৃদ্ধি পায়। এজন্য শ্রমিকের প্রকৃত অবস্থা আর্থিক মজুরি নয়, প্রকৃত মজুরির উপর নির্ভর করে।

১০২. প্রশ্ন:-মজুরি বৃদ্ধিতে কি সর্বদা শ্রমের যোগান বাড়ে?

উত্তর:-মজুরি বৃদ্ধিতে সর্বদাশ্রম এর যোগান বাড়ে না। শ্রমের মজুরির পর অধিক আরাম আয়েশ এর প্রতি বেশি আকর্ষিত হলে শ্রমের যোগান না বোড়ে বরং কমে। তখন শ্রমের মজুরি বাড়লেও শ্রমের যোগান হ্রাস পায়। সুতরাং মজুরি ঐ ভিত্তিতে ভিত্তিতে সর্বদাশ সর্বদাশ প্রশ্রমের শ্রমের যোগান যোগান বাড়ে না।

১০৩. প্রশ্ন:-প্রকৃত মজুরি অর্থ দ্বারা পরিমাপযোগ্য নয়-কেন?

উত্তর:-প্রকৃত মজুরি অর্থ দ্বারা পরিমাপ যোগ্য নয়, কারণ প্রকৃত মজুরি হলো আর্থিক মজুরির ক্রয় ক্ষমতা ও প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধার সমষ্টি। আর্থিক মজুরি থেকে প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা দৃশ্যমান হতে পারে অদৃশ্যমানও হতে পারে। প্রকৃত মজুরি কে দ্রব্য সামগ্রী ও সেবা কর্মের পরিমাণ দ্বারা প্রকাশ করা হাই বলে এটি অর্থের ক্রয় ক্ষমতার উপর নির্ভর করে। কেননা প্রকৃত মজুরি হলো শ্রমিকের প্রাপ্ত আর্থিক মজুরি দ্বারা দ্রব্য ও সেবার ক্রয় ক্ষমতা। যা অর্থ দ্বারা সরাসরি পরিমাপ করা যায় না। সুতরাং প্রকৃত মজুরি অর্থ দ্বারা পরিমাপ যোগ্য নয়।

১০৪. প্রশ্ন:-শ্রম ও শ্রমিককে অবিচ্ছেদ্য অংশ বলা হয় কেন?

উত্তর:-শ্রমিকের দৈহিক ও মানসিক শক্তি থেকে শ্রম সৃষ্ট হয়। এজন্য শ্রম এবং শ্রমিককে অবিচ্ছেদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শ্রমিক যতক্ষণ জীবিত থাকে ততক্ষণ তার দৈহিক ও মানসিক শক্তি কার্যকর থাকে এবং তা থেকে শ্রম উৎপন্ন হয়। তাই শ্রমিক ও শ্রমের সহাবস্থান করে। উৎপাদনে শ্রম উপকরণ ব্যবহার করতে হলে অবশ্যই তার সাথে শ্রমিকের অস্তিত্ব মেনে নিতে হবে। এজন্য বলা হয় শ্রম ও শ্রমিক অবিচ্ছেদ্য।

১০৫. প্রশ্ন:-দাম স্তরের স্থির থেকে আর্থিক মজুরি বাড়লে প্রকৃত মজুরি ও বৃদ্ধি পায়-ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:-একই পেশায় মজুরি বিভিন্ন হওয়ার প্রধান কারণ হলো শ্রমের দক্ষতা। স্বভাববোতোই যে সকল শ্রমিকের দক্ষতা বেশি, তাদের মজুরি বেশি হয়। কারণ দক্ষ শ্রমিক গুণগতমান সম্পন্ন পণ উৎপাদনে বেশি অবদান রাখে। যা মালিক পক্ষের মুনাফা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। আবার যে সকল প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি আর্থিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে সে সকল প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা প্রকৃত মজুরি বেশি পেয়ে থাকে।

১০৬. প্রশ্ন:-খনিতে নিয়োজিত শ্রমিকের মজুরি বেশি হয় কেন?

উত্তর:-খনির কাজের শ্রমের যোগান কম হওয়ায় শ্রমের মজুরি বেশি হয়। সাধারণত খনিতে নিয়োজিত শ্রমিকদের কর্মকান্ড অনেক কষ্টসাধ্য ও ছুঁকিপূর্ণ। তাই এ কাজের শ্রমের যোগান সাধারণ অন্য কাজে তুলনায় কম। ফলে একজন শ্রমিক বেশি মজুরি দাবি করতে পারে। অর্থাৎ খনির কাজ কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় চাহিদার তুলনায় শ্রমের যোগান কম। এজন্য খনিতে নিয়োজিত শ্রমিকের মজুরি বেশি হয়।

১০৭. প্রশ্ন:-শ্রম ও শ্রমিক অবিচ্ছেদ্য-ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:-শ্রমিকের দৈহিক ও মানসিক শক্তি থেকে শ্রম সৃষ্ট হয়। এজন্য শ্রম একটি জীবন্ত উপকরণ হিসেবে গণ্য। শ্রমিক যতক্ষণ জীবিত থাকে ততক্ষণ তার দৈহিক ও মানসিক শক্তি কার্যকর থাকে এবং তা থেকে শ্রম উৎপন্ন হয়। তাই শ্রমিক ও শ্রমের যোগান একসাথে অবস্থান করে। এজন্যই বলা হয় শ্রম ও শ্রমিক অবিচ্ছেদ্য। উৎপাদনে শ্রম উপকরণ ব্যবহার করতে হলে অবশ্যই তার সাথে শ্রমিকের অস্তিত্ব মেনে নিতে হবে।

১০৮. প্রশ্ন:-শ্রমের যোগান দীর্ঘমেয়াদি বিষয়-ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:-শ্রম একটি পরিবর্তনশীল উপকরণ হওয়ায় এর যোগান একটি দীর্ঘমেয়াদী বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। একটি নির্দিষ্ট মজুরিতে যতক্ষণ শ্রমিকের শ্রম প্রদানের রাজি থাকে, তাকে শ্রমের একটি নির্দিষ্ট মজুরি তে যতক্ষণ শ্রমিক শ্রম প্রদানে রাজি থাকে, তাকে শ্রমের যোগান বলে। আর এই শ্রমের যোগান নির্ভর করে জনসংখ্যার আয়তন জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার, শিক্ষা ও শ্রমের দক্ষতা ইত্যাদি বিষয়ের উপর। এ সকল বিষয় স্বল্পকালে পরিবর্তন হয় করা না গেলেও দীর্ঘকালে এগুলো পরিবর্তনশীল। যেহেতু শ্রমের যোগান এই সকল পরিবর্তনশীল বিষয়ের উপর নির্ভরশীল সুতরাং এটাকে একটি দীর্ঘকালীন বিষয় বলা যায়।

১০৯. প্রশ্ন:-মজুরি ও আয় এক নয়?

উত্তর:-মজুরি ও আয় ধারণা দুটি পৃথক। একজন শ্রমিক তার শারীরিক ও মানসিক শ্রমের বিনিময়ে যা উপার্জন করে তা হলো মজুরি। আর উৎপাদন বা ব্যবসায় দ্রব্য বা সেবা বিক্রি করে যে অর্থ পাওয়া যায় তা হলো আয়। মজুরি হল কাজ করার জন্য চুক্তিভিত্তিক প্রাপ্তি। যেখানে আয়ের ক্ষেত্রে এরকম চুক্তি কোন অস্তিত্ব থাকে না। মজুরির পরিমাণ নির্দিষ্ট, যা একটি নির্দিষ্ট সময় কালে একই রকম থাকে। কিন্তু আয় এর পরিমাণ নির্দিষ্ট নয়। একটি নির্দিষ্ট সময়কালে তা কম বেশি হতে পারে। মজুরি প্রকাশিত থাকলেও আয় অজানা থাকে। এজন্য মজুরি ও আয় এক নয়।

১১০. প্রশ্ন:-শ্রমের যোগান কিভাবে বৃদ্ধি করা যায়?

উত্তর:-প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধির মাধ্যমে শ্রমের যোগান বৃদ্ধি করা যায়। শ্রমের যোগানের অন্যতম প্রধান নির্ধারক হলো প্রকৃত মজুরি। প্রকৃত মজুরির সাথে শ্রমের যোগানের সম্পর্ক ধনাত্মক বা সমমুখী; তাই প্রকৃত মজুরি বাড়লে শ্রমের যোগান বৃদ্ধি পায়। আবার, প্রকৃত মজুরি হ্রাস পেলে শ্রমের যোগান ও হ্রাস পায়। কারণ প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধি পেলে শ্রমিকের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, সুযোগ সুবিধা পারে ও জীবন যাত্রার মান বৃদ্ধি পায় ফলে সে অধিক পরিমাণ প্রোম দিতে প্রস্তুত থাকে। সুতরাং প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধির মাধ্যমে মাধ্যমেই শ্রমের যোগান বৃদ্ধি বৃদ্ধি করা করা যায়।

১১১. প্রশ্ন:-মজুরি শ্রমের চাহিদাকে কিভাবে প্রভাবিত করে?

উত্তর:-সাধারণ বেশি মজুরিতে কম এবং কম মজুরিতে বেশি শ্রমের চাহিদা হয়। চাহিদা হল উদ্ভূত চাহিদা-এটি শ্রমিকের জন্য নয় বরং তার উৎপাদনশীলতার জন্য হয়। শ্রমিক যা উৎপাদন করে তার মূল্য অর্থাৎ শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা যদি তাকে প্রদত্ত মজুরি থেকে বেশি হয় তবে শ্রমের চাহিদা অধিক হয়। মজুরি কম থাকলে এমনটি হয়। আর শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা যদি প্রদত্ত মজুরি থেকে যদি কম হয় তবে শ্রমের চাহিদাও কম হয়। মজুরি বেশি হলে এমনটি হয়।

১১২. প্রশ্ন:-মজুরি ও আয় একই কিনা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:-মজুরি ও আয় এক নয়, এরা পরস্পর আলাদা. একজন শ্রমিক তার শারীরিক ও মানসিক শ্রমের বিনিময়ে যা উপার্জন করে তা হলো মজুরি। আর উৎপাদন বা ব্যবসায় দ্রব্য বা সেবা বিক্রি করে যে অর্থ পাওয়া যায় তা হল আয়। মজুরির পরিমাণ নির্দিষ্ট, যা একটি নির্দিষ্ট সময়ে একই থাকে। কিন্তু এর পরিমাণ নির্দিষ্ট সময়ে কম বেশি হতে পারে। মজুরি প্রকাশিত থাকলেও আয় থাকে অজানা।

১১৩. প্রশ্ন:-আর্থিক মজুরি ও প্রকৃত মজুরির পার্থক্য লেখ।

উত্তর:-আর্থিক মজুরি ও প্রকৃত মজুরির মধ্যে বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য রয়েছে। শ্রমিক অর্থ হিসেবে চেয়ে মজুরি পায় তাকে আর্থিক মজুরি বলে। এ মজুরি অর্থ দ্বারা পরিমাপ করা হয়। পক্ষান্তরে, আর্থিক মজুরি তারা ক্রয়-কৃত দ্রব্য ও সেবার পরিমাণ এবং কর্মক্ষেত্র থেকে প্রাপ্ত সুযোগ সুবিধার সমষ্টি হল প্রকৃত মজুরি। আর্থিক মজুরি দাম স্তর দ্বারা প্রভাবিত হয় না। কিন্তু প্রকৃত মজুরি দাম স্তর দ্বারা প্রভাবিত হয়।

১১৪. প্রশ্ন:-প্রকৃত মজুরি বলতে কী বোঝো?

উত্তর:-শ্রমিক আর্থিক মজুরির মাধ্যমে যে পরিমাণ দ্রব্য ও সেবা ক্রয় করতে পারে এবং নিয়োগকর্তার থেকে যে অতিরিক্ত সুযোগ সুবিধা পায় তার সমষ্টিকেই প্রকৃত মজুরি বলে। কোন শ্রমিক নিয়োগ কারী প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থিক মজুরির পাশাপাশি অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যেমন-বাসস্থান সুবিধা, চিকিৎসা সুবিধা পরিবহন ভাতা ইত্যাদি পেয়ে থাকে।

১১৫. প্রশ্ন:-মজুরি বৃদ্ধিতে কি সর্বদা শ্রমের যোগান বাড়ে?

উত্তর:-মজুরি ভিত্তিতে সর্বদা শ্রমের যোগান বাড়ে না। শ্রমের মজুরি বাড়লে একজন শ্রমিক বেশি শ্রম দেয়। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট মজুরের পর শ্রমিক আরাম-আয়েশের প্রতি বেশি আকর্ষিত হলে শ্রমের যোগান না বেড়ে বরং কমে। তখন শ্রমের মজুরি বাড়লেও শ্রমের যোগান হ্রাস পায় । সুতরাং মুজরি বৃদ্ধিতে সর্বদা শ্রমের যোগান বাড়ে না ।

১১৬. প্রশ্ন:-শ্রমের চাহিদা বলতে কী বোঝায়?

উত্তর:-কোন নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট মজুরিতে উৎপাদন কারীগণ যে সংখ্যক শ্রমিক নিয়োগ প্রদানের সম্মত থাকে তাকে শ্রমের চাহিদা বলে। মজুরির সঙ্গে শ্রমের চাহিদা সম্পর্ক বিপরীত। কেননা মজুরি বাড়লে শ্রমের চাহিদা কমে। অর্থাৎ উৎপাদনকারী কম সংখ্যক শ্রমিক নিয়োগ করে। খাবার মজুরি হ্রাস পেলে শ্রমের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ উৎপাদনকারী বেশি সংখ্যক শ্রমিক নিয়োগ করে।

১১৭. প্রশ্ন:-শ্রমের চাহিদা রেখা ডান দিকে নিম্নগামী হয় কেন?

উত্তর:-শ্রমের চাহিদা রেখা ডানদিকে নিম্নগামী হয়, কারণ প্রকৃত মজুরি কমালে শ্রমের চাহিদা বাড়ে এবং প্রকৃত মজুরি বাড়ালে শ্রমের চাহিদা কমে। প্রাথমিকভাবে শ্রমের চাহিদা আর্থিক ওজনের উপর নির্ভরশীল হলেও বাস্তবে তা প্রকৃত মজুরির উপর নির্ভরশীল। প্রকৃত মজুরি কম হলে নিয়োগ কারীর নিকট শ্রমিক নিয়োগের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। ফলে প্রকৃত মজুরি সাথে শ্রমের চাহিদা সম্পর্ক বিপরীত হয়। আবার প্রকৃত মজুরি বেশি হলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। ফলে নিয়োগকারীর কাছে শ্রমিক নিয়োগের চাহিদা কমে যায়। তাই প্রকৃত মজুরির সাথে শ্রমিক চাহিদার সম্পর্ক বিপরীত হয়। এজন্য শ্রমের চাহিদা রেখা ডান দিকে নিম্নগামী হয়।

১১৮. প্রশ্ন:-শ্রমিক সংঘের ধারণাটি বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর:-শ্রমিকদের নিয়ে শ্রমিক সংঘ গঠিত হয়। শ্রমিক সংখ্যা নিজেদের আওতাভুক্ত শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা, উপযুক্ত পারিশ্রমিক লাভ, চাকরির শর্তাবলির উন্নতি সাধনসহ বিভিন্ন দাবি মালিক বা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সাথে দরকষাকষির মাধ্যমে ঠিক করে। শ্রমিকরা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে। এই নির্বাচিত প্রতিনিধিদের যৌথ দর কষাকষি এজেন্ট বলা হয়। শ্রমিক ও মালিকের সম্পর্ক সর্বদাই স্বার্থের দ্বন্দ্ব থাকে। কারণ শ্রমিক প্রত্যাশা করে অধিক মজুরি কিন্তু মালিক চাই তাদেরকে কম মজুরি দিয়ে উৎপাদনে নিয়োজিত করতে। তাই শ্রমিকদের আর্থিক দুরবস্থা রোড এবং ন্যায্য মজুরি আদায় করা শ্রমিক সংঘের অন্যতম লক্ষ্য। একক প্রচেষ্টায় যা সম্ভব নয়, শ্রমিক সংঘের মাধ্যমে তা সম্ভব হয়।

১১৯. প্রশ্ন:-আর্থিক মজুরি নয়, প্রকৃত মজুরির মাধ্যমে শ্রমিকের প্রকৃত অবস্থা জানা যায়-ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:-শ্রমিকের প্রকৃত অর্থনৈতিক অবস্থা প্রকৃত মজুরির উপর নির্ভরশীল। আর্থিক মজুরির ক্রয় ক্ষমতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ভিত্তিতে প্রকৃত মজুরি পরিমাপ করা হয়ে থাকে। শ্রমিক তার আর্থিক মজুরি দ্বারা যে পরিমাণ দ্রব্য সামগ্রী ও সেবা ক্রয় করতে পারে এবং কর্মস্থল থেকে অন্য যেসব সুযোগ-সুবিধা পায় তার সমষ্টিকে প্রকৃত মজুরি বলে। প্রকৃত মজুরির দাম স্তর দ্বারা প্রভাবিত হয়। ফলে প্রকৃত মজুরি হ্রাস, বৃদ্ধি পায়। এজন্য বলা হয়, শ্রমিকের প্রকৃত অবস্থা আর্থিক মজুরি নয়, প্রকৃত মজুরি দ্বারা জানা যায়।

Leave a Comment