ভোক্তা ও উৎপাদক আচরণ: অধ্যায় 2 ৩০+ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর  (HSC অর্থনীতি প্রথম পত্র )



HSC অর্থনীতি প্রথম পত্র দ্বিতীয় অধ্যায়

           অনুধাবনমূলক প্রশ্ন  ও উত্তর

       ভোক্তা ও উৎপাদকের আচরণ



1 থেকে 24  প্রথম অধ্যায়। মৌলিক অর্থনীতির ধারণা

২৫. প্রশ্ন:- যোগানের পরিমাণ এর উপর ভর্তুকির প্রভাব ব্যাখ্যা কর।

উত্তর:- যোগানের উপর ভর্তুকির প্রভাব ঋণাত্মক। কোন নির্দিষ্ট দামে বিক্রেতা কোন দ্রব্যের যে নির্দিষ্ট পরিমাণ বিক্রয় করতে ইচ্ছুক তা যোগান। কোন দ্রব্যের উপর ভর্তুকি প্রদান করা হলে উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পায়। এতে প্রতি একক দ্রব্যের মুনাফার পরিমান বাড়ে। ফলে বিক্রেতা অধিক মুনাফা লাভের আশায় দ্রব্যের যোগান বাড়িয়ে দেন। এভাবে যোগানের পরিমাণ এর উপর ভর্তুকির ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

২৬. প্রশ্ন:- ক্রেতার আয় কিভাবে চাহিদার পরিমাণ কে প্রভাবিত করে?

উত্তর:- ক্রেতার আয় চাহিদা বৃদ্ধি ও হ্রাস করতে পারে। দাম স্থির থেকে ক্রেতার আয় বৃদ্ধি পেলে ক্রেতার ক্রয় ক্ষমতা বাড়ে। ফলে তার চাহিদা বৃদ্ধি পায়। আবার আয় কমলে তার করায় ক্ষমতার হ্রাস পায়। তাই সে পূর্বের দামে কম পরিমাণ কিনতে ইচ্ছুক থাকে। ফলে চাহিদা হ্রাস পায় অর্থাৎ ক্রেতার আয় বলে চাহিদা বাড়ে আবার আয়-কমলে চাহিদা কমে।

২৭. প্রশ্ন:- যোগান রেখা ঊর্ধ্বগামী হয় কেন?

উত্তর:- দামের পরিবর্তে যোগানের পরিমাণ সম্মুখে পরিবর্তন হওয়ায় যোগান রেখা ঊর্ধ্বগামী হয়। সাধারণভাবে দাম বাড়লে যোগান বাড়ে এবং দাম কমলে যোগান কমে যোগান রাখার লম্বকক্ষে থাকে দাম এবং ভূমি অক্ষে থাকে যোগানের পরিমাণ। দাম যত বেড়ে উপরের দিকে আসে, যোগানের পরিমাণ ততো বৃদ্ধি পেয়ে ভূমির অক্ষের ডান দিকে সরতে থাকে। বলেন যোগান রেখা ডানদিকে ঊর্ধ্বগামী হয়।

২৮. প্রশ্ন:- সাধারণত চাহিদা রেখা ডানদিকে নিম্নগামী হয় কেন?

উত্তর:- দ্রব্যের দাম ও চাহিদা পরিমাণের সম্পর্ক বিপরীতমুখী সম্পর্কের কারণে সাধারণত চাহিদা রেখা ডানদিকে নিম্নগামী হয়। চাহিদা বৃদ্ধি অনুযায়ী দ্রব্যের দাম বাড়লে ভোক্তার চাহিদার পরিমাণ কমে। আবার দাম কমলে চাহিদার পরিমাণ বাড়ে। এই বিপরীত সম্পর্ক রেখাচিত্রের প্রকাশ করলে ডান দিকে নিম্নগামী চাহিদা রেখা পাওয়া যায়। সুতরাং, এরূপ সম্পর্কের জন্যই চাহিদা রেখা বাম দিক থেকে ডান দিকে নিম্নগামী হয়।

২৯. প্রশ্ন:- আড়াআড়ি স্থিতিস্থাপকতার মান ধনাত্মক হলে দ্রব্য দুটির প্রকৃতি কিরূপ?

উত্তর:- আড়াআড়ি স্থিতিস্থাপকতার মান ধনাত্মক হলে দ্রব্য দুটি পরস্পর পরিবর্তনদ্রব্য। পরস্পর সম্পর্কিত দুটি দ্রব্যের দামের ও চাহিদার পরিমাণ আপেক্ষিক পরিবর্তনে হল চাহিদার আড়াআড়ি স্থিতিস্থাপকতা। পরিবর্তনক দ্রব্যের ক্ষেত্রে (চা ও কফি) একটি দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি বলে অপর দ্রব্যের চাহিদার পরিমাণ ও বৃদ্ধি পায়। ফলে স্থিতিস্থাপকতার মান ধনাত্মক হয়। সুতরাং পরিবর্তন দ্রব্যের আড়াড়ি স্থিতিস্থাপকতার মান ধনাত্মক।

৩০. প্রশ্ন:- আয় চাহিদাকে কিভাবে প্রভাবিত করে?

উত্তর:- এর সাথে চাহিদার সমমুখী সম্পর্ক বিদ্যমান। দামি স্থির থেকে ক্রেতার আয় বৃদ্ধি পেলে ক্রেতার কয় ক্ষমতা বাড়ে। ফলে তার চাহিদা বৃদ্ধি পায়। আবার আই কমলে তার পায় ক্ষমতা হ্রাস পায়। তাই সে পূর্বের দামে কম পরিমাণ কিনতে ইচ্ছুক থাকে। ফলে চাহিদা বৃদ্ধি পায়। আবার আয় কমলে তারপর ক্ষমতা হ্রাস পায়। তাই এ পূর্বের দামে কম পরিমাণ কিনতে ইচ্ছুক থাকে। ফলে চাহিদা হ্রাস পায়। অর্থাৎ আয় বাড়লে চাহিদা বাড়ে এবং আয় কমে চাহিদা কমে।

৩১. প্রশ্ন:- দামের সাথে যোগানের সম্পর্ক কিরূপ? বুঝিয়ে লেখ।

উত্তর:- দামের সাথে যোগানের সম্পর্ক সমমুখী। কোন দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি সাথে সাথে এর যোগানের পরিমাণ বাড়ে। আবার, দাম কমার সাথে সাথে এক যোগানের পরিমাণ কমে। অর্থাৎ, দাম যেদিকে পরিবর্তিত হয় যোগানো সেদিকে পরিবর্তিত হয়। এভাবে দাম ও যোগানের সম মুখী সম্পর্ক প্রকাশ করে।

৩২. প্রশ্ন:- ভোক্তার আয়ের পরিবর্তন/রুচি' ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগ বিধির উপর কিভাবে প্রভাব ফেলে?

উত্তর:- ভোক্তার আয়/রুচি ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগ বিধি কার্যকারিতার ওপর প্রভাব ফেলে। ভোক্তা আয় স্থির থেকে কোন দ্রব্য ক্রমাগত ভোগ করলে প্রান্তিক উপযোগ ক্রমশ হ্রাস পায়। ফলে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উপযোগ বিধি কার্যকর হয়। কিন্তু আয়ের পরিবর্তনের কারণে ভোক্তা বেশি ভোগ করলেও প্রান্তিক উপযোগ ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে প্রান্তিক উপযোগ বাড়বে এবং ক্রমহ্রাসমান উপযোগ বিধির বার্তায় ঘটে।

৩৩. প্রশ্ন:- আবহাওয়া পরিবর্তন কিভাবে যোগানের পরিমাণকে প্রভাবিত করে?

উত্তর:- আবহাওয়া পরিবর্তন হলে যোগানের পরিমাণ পরিবর্তন হয়। কোন নির্দিষ্ট সময় নির্দিষ্ট দামে বিক্রেতা যে পরিমাণ বিক্রয় করতে ইচ্ছুক তাকে যোগান বলে। দাম ছাড়াও যোগান সময়, আবহাওয়া ইত্যাদি দ্বারা প্রভাবিত হয়। নেতিবাচক আবহাওয়ায় দ্রব্যের উৎপাদন, পরিবহন ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়। ফলে গ্রুপের যোগান হ্রাস পায়। আবার অনুকূল আবহাওয়ায় উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। ফলে দ্রব্যের যোগানও বেড়ে যায়। তাই বলা যায়, আবহাওয়ার পরিবর্তন যোগানের পরিমাণকে ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুইভাবে প্রভাবিত করে।

৩৪. প্রশ্ন:- যোগান রেখা কি সর্বদা ডান দিকে ঊর্ধ্বগামী হয়?

উত্তর:- যোগান রেখা সর্বদা ঊর্ধ্বগামী হয় না। যোগান বিধির ব্যতিক্রম ঘটলে যোগান রেখা ঊর্ধ্বগামী হয় না। বরং ভূমি বা লম্বা অক্ষের সমান্তরাল হয়। যেমন-সীমাবদ্ধ যোগান, দুর্লভপণ্য সামগ্রী ক্ষেত্রে যোগান লম্ব অক্ষের সমান্তরাল হয়ে থাকে। আবার শ্রমের যোগান রেখা বাম দিকে পশ্চাৎগামী হয়ে থাকে। সুতরাং যোগান রেখা সর্বদা ঊর্ধ্বগামী হয় না।

৩৫. প্রশ্ন:- চাহিদা কি শুধু দামের উপর নির্ভরশীল? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর:- চাহিদা শুধু দামের উপর নির্ভরশীল নয়। কোন নির্দিষ্ট সময় নির্দিষ্টতা আমি ক্রেতা কোন দ্রব্যের যে পরিমাণ ক্রয় করতে ইচ্ছুক তা চাহিদা। চাহিদার পরিমাণ ক্রেতার আয়, রুচি, সময় ইত্যাদি দ্বারা প্রভাবিত। যেমন:- ক্রেতা আয় বাড়লে চাহিদা বাড়ে, শীতের সময় গরম কাপড়ের চাহিদা বাড়ে। আবারো রুচির পরিবর্তন হলেও চাহিদার পরিবর্তন হয়। তাই বলা যায় শুধু দামের উপর চাহিদা নির্ভরশীল নয়।

৩৬. প্রশ্ন:- কাগজ ও কলম দ্রব্য দুটির সম্পর্ক কেমন?

উত্তর:- কাগজ ও কলম এ দুটি দ্রব্যের সম্পর্ক পরিপূরক। দুটি দ্রব্যের মধ্যে একটি ভোগ বৃদ্ধির জন্য অপরটির ভোগ বৃদ্ধির প্রয়োজন হয় তবে দ্রব্য দুটিকে পরস্পরের পরিপূরক বলে। পরিপূরক দ্রব্য সাধারণত একত্রে ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ একটি ব্যবহার করলে অন্যটিরও প্রয়োজন হয় যেমন-কলম ছাড়াও কাগজের ব্যবহার অর্থহীন। সুতরাং কাগজ ও কলমের সম্পর্ক পরিপূরক।

৩৭. প্রশ্ন:- চাহিদার হ্রাস-বৃদ্ধি বলতে কী বোঝায়?

উত্তর:- চাহিদার হ্রাস বৃদ্ধি বলতে চাহিদার পরিমাণ পরিবর্তনকে বোঝায়। অনেক সময় দাম স্থির থেকে ভোক্তার আয়, রুচি ও অভ্যাসের পরিবর্তন হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ভোক্তার অন্যান্য অবস্থার পরিবর্তনে চাহিদা কমলে তাকে চাহিদা হ্রাস বলে। আর চাহিদা বাড়লে তাকে চাহিদা বৃদ্ধি বলা হয়। অর্থাৎ বিবেচ্য দ্রব্যের দাম স্থির থেকে অন্যান্য বিষয়ের পরিবর্তনে চাহিদার পরিমাণ বাড়ে ও কমে। মূলত একই চাহিদার হ্রাস বৃদ্ধি বলে।

৩৮. প্রশ্ন:- চালক ও ধ্রুবক একই নয় কেন?

উত্তর:- চালক ভিন্ন ভিন্ন মান গ্রহণ করতে পারলেও ধ্রুবক একটি নির্দিষ্ট মান গ্রহণ করে। সাধারণত যে রাশি বা প্রতীক ভিন্ন ভিন্ন মান গ্রহণ করে তাকে চলক বলে। অন্যদিকে, ধ্রুবক হলো এমন এক ধরনের রাশি, জার্মান স্থির বা নির্দিষ্ট থাকে। যেমন-চাহিদা সমীকরণ Q=a bP এর ক্ষেত্রে চলক P এর মান ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু a এর মান সব সময় নির্দিষ্ট থাকে। অর্থাৎ মান গ্রহণের পার্থক্যের কারণে চলক ও ধ্রুবক একই নয়।

৩৯. প্রশ্ন:- দামের সাথে যোগানো সম্পর্ক সমমুখী-ব্যাখ্যা কর।

উত্তর:- দামের সাথে যোগানের সম্পর্ক সমমূখী। কোন দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে যোগানের পরিমাণও বাড়তে থাকে। আবার দাম কমার সাথে সাথে যোগানের পরিমাণ কমে। অর্থাৎ দাম যেদিকে পরিবর্তিত হয় যোগান ও সেদিকে পরিবর্তিত হয়।

৪০. প্রশ্ন:- চাহিদা কি শুধুই দামের উপর নির্ভর করে?

উত্তর:- চাহিদা শুধু দামের উপর নির্ভরশীল নয়। কোন নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট দামে ক্রেতা কোন দ্রব্যের যে পরিমাণ ক্রয় করতে ইচ্ছুক থাকে তা চাহিদা। চাহিদার পরিমাণ ক্রেতার আয়, রুচি, সময়, ইত্যাদি দ্বারা প্রভাবিত। যেমন:-ক্রেতার আয় বাড়লে চাহিদা বাড়ে, শীতের সময় গরম কাপড়ের চাহিদা বাড়ে, রুচি পরিবর্তন হলে চাহিদাও পরিবর্তন হয় ইত্যাদি। তাই বলা যায়, চাহিদা শুধু দামের উপর নির্ভরশীল নয়।

৪১. প্রশ্ন:- পরিবর্তন দ্রব্যের চাহিদা রেখার আকৃতি কিরূপ? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:- পরিবর্তক দ্রব্যের চাহিদা রেখা বাম দিক থেকে ডান দিকে ঊর্ধ্বগামী হয়। সাধারণত যদি দুটি দ্রব্যের চাহিদা রেখা বাম দিক থেকে ডানদিকে ঊর্ধ্বগামী হয়। সাধারণত যদি দুটি দ্রব্যের মধ্যে একটি পরিবর্তে অন্যটি ভোগ করে প্রায় সমান উপযোগ লাভ করা যায়। তবে দ্রব্য দুটিকে পরস্পর পরিবর্তন বা বিকল্পদ্রব্য বলা হয়। এ ধরনের দ্রব্যের ক্ষেত্রে একটি দাম বৃদ্ধি পেলে অপরটির চাহিদা বেড়ে যায়। যেমন:-চা ও কফির মধ্য যদি চায়ের দাম বৃদ্ধি পায়। তখন কফির চাহিদা তথা ভোগ বৃদ্ধি পাবে। এজন্য পরিবর্তন দ্রব্যের দাম ও চাহিদার মধ্যে সম্মুখীন সম্পর্ক বিদ্যমান। আর এই সম্মুখী সম্পর্কের কারণে চাহিদা রেখা বাম দিক থেকে ডান দিকে ঊর্ধ্বগামী হয়।

৪২. প্রশ্ন:- লম্ব অক্ষের সমান্তরাল চাহিদা রেখার স্থিতিস্থাপকতা শূন্য হয় কেন?

উত্তর:- দামের পরিবর্তনের চাহিদার কোন পরিবর্তন না হলে স্থিতিস্থাপকতার মান শূন্য হয়। দামের পরিবর্তনে যদি চাহিদার পরিবর্তন না হয়। ফলে চাহিদা রেখা দাম বা লম্বা অক্ষের সমান্তরাল হয়। এক্ষেত্রে দাম যতই বাড়ুক চাহিদার পরিমাণ স্থির থাকে। অর্থাৎ ভূমি আক্ষেপ সমান্তরাল চাহিদা রেখায় দামের শতকরা পরিবর্তনে চাহিদার শতকরা পরিবর্তন হয় না। তাই এ রেখার স্থিতিস্থাপকতার মান শূন্য হয়।

৪৩. প্রশ্ন:- স্বর্ণের চাহিদার স্থিতিস্থাপকতা কেমন হবে--ব্যাখ্যা কর।

উত্তর:- স্বর্ণের চাহিদার স্থিতিস্থাপকতা একক অপেক্ষা বেশি হবে। কোন দ্রব্যের দামের আপেক্ষিক পরিবর্তনের ফলে চাহিদার যে আপেক্ষিক পরিবর্তন হয় তার মাত্রাকে চাহিদার স্থিতিস্থাপকতা বলে। অর্থাৎ দামের আপেক্ষিক পরিবর্তনের চেয়ে চাহিদার পরিবর্তন অধিক হয়। ফলে চাহিদার স্থিতিস্থাপকতার মান একক অপেক্ষা অধিক হবে।

৪৪. প্রশ্ন:- যোগানো মজুদ এক নয়--ব্যাখ্যা কর।

উত্তর:- মজুদ ও যোগান কথা দুটি সামর্থক মনে হলেও অর্থনীতিতে ধারণা দুটি ভিন্ন অর্থ রয়েছে। বিক্রয় যোগ্য একটি দ্রব্যের মোট পরিমাণ হলো মজুদ। কিন্তু কোন নির্দিষ্ট দামে বিক্রেতা কোন দ্রব্যের যে পরিমাণ বিক্রয় করতে ইচ্ছুক তাকে ঐ দ্রব্যের যোগান বলে। যোগান হল মজুদের একটি অংশ।

৪৫. প্রশ্ন:- কোন দ্রব্যের পরিপূরক দ্রব্যের দাম বাড়লে দ্রব্যটি চাহিদাতে কি প্রভাব পড়বে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর:- কোন দ্রব্যের পরিপূরক দ্রব্যের দাম বাড়লে দ্রব্যটির চাহিদা হ্রাস পায়। দুটি দ্রব্যের মধ্যে একটি দ্রব্যের ভোগ বাড়াতে হলে যদি অপদ্রব্যের ভোগ বাড়াতে হয়। আর এ দ্রব্য দুটিকে একটি অপরটির পরিপূরক বলা হয়। অর্থাৎ পরিপূরক দ্রব্যের ক্ষেত্রে দ্রব্য দুটি একসাথে ভোগ করতে হয়। এক্ষেত্রে পরিপূরক দ্রব্যের দাম বাড়লে ভোগের মোট খরচ বৃদ্ধি পায়। ফলে দ্রব্যটির চাহিদা কমে যায়।

৪৬. প্রশ্ন:- যোগানের উপর সময়ের প্রভাব ব্যাখ্যা কর।

উত্তর:- প্রজাপ্ত সময় দেওয়ানা হলে চাহিদা অনুযায়ী যোগান দেওয়া সম্ভব হয় না। কোন দ্রব্যের চোখ আর নিজের সব বিষয় দ্বারা প্রভাবিত হয় তার মধ্যে সময় অন্যতম। স্বল্পকালীন ও দীর্ঘকালীন সময় দ্রব্যের যোগান যথাক্রমে ও স্থিতিস্থাপক ও স্থিতিস্থাপক প্রকৃতির হয়ে থাকে। স্বল্পকালে চাহিদার অস্থিতিস্থাপক ও স্থিতিস্থাপক প্রকৃতির হয়ে থাকে। স্বল্পকালে চাহিদার অনুপাতে যোগান পরিবর্তন করা যায় না তবে দীর্ঘকালের পরিবর্তন করা যায়। সুতরাং বলা যায় সময়ের উপর যোগান নির্ভরশীল।

৪৭. প্রশ্ন:- উপকরণের দাম কিভাবে যোগান কে প্রভাবিত করে?

উত্তর:- উপকরণের দাম যোগানের পরিমাণকে ঋণাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। কোন দ্রব্য উৎপাদনের প্রয়োজন উপকরণ সমূহের দাম বৃদ্ধি পেলে উক্ত দ্রব্যের মোট উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পায়। ফলে উৎপাদিত দ্রব্যের কাঙ্ক্ষিত যোগা

৪৮. প্রশ্ন:- উপকরণের দাম কিভাবে যোগান কে প্রভাবিত করে?

উত্তর:- উপকরণের দাম যোগানের পরিমাণকে ঋণাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। কোন দ্রব্য উৎপাদনের প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহের দাম বৃদ্ধি পেলে উক্ত দ্রব্যের মোট উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পায়। ফলে উৎপাদিত দ্রব্যের ক্রান্তীয় যোগান নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। কোন দিকে প্রয়োজনীয় উপকরণের মূল্য কম হলে উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পায়। এতে মোট উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। ফলে ৭৫ যোগান দেওয়া সম্ভব হয় অর্থাৎ উপকরণের দাম বৃদ্ধি পেলে সংশ্লিষ্ট দ্রব্যের যোগান হ্রাস পায়। আবার উপকরণের দাম হ্রাস পেলে সংশ্লিষ্ট দ্রব্যের যোগান বৃদ্ধি পায়। এভাবে উপকরণের দাম সংশ্লিষ্ট দ্রব্যকে প্রভাবিত করে।

৪৯. প্রশ্ন:- প্রান্তিক উপযোগ ঋণাত্মক হলে মোট উপযোগ হ্রাস পায় কেন?

উত্তর:- মোট উপযোগ সর্বোচ্চ হওয়ার পর তা হ্রাস পেতে থাকলে তখন প্রান্তিক উপযোগ ঋণাত্মক হয়। সাধারণত একটি নির্দিষ্ট সময়ে ভোক্তা কোন দ্রব্য ভোগের মাধ্যমে সর্বোচ্চ উপযোগ ভাতৃপ্তি লাভ করে। তারপর উক্ত দ্রব্যের ভোগ ক্রমাগত চলতে থাকলে প্রান্তিক উপযোগ কমতে থাকে। মোট উপযোগ সর্বোচ্চ হয়ে গেলে প্রান্তিক উপযোগ শূন্য হয়। এরপর ভোগ চালিয়ে গেলে মোট উপযোগ গ্রাস পায়। আর মোট উপযোগ রাশের মাধ্যমে প্রান্তিক উপযোগ ঋণাত্মক হয়ে থাকে।

৫০. প্রশ্ন:- অস্থিতিস্থাপক যোগান বলতে কি বুঝায়?

উত্তর:- পরিস্থিতি স্থাপক যোগান বলতে দাম বৃদ্ধির বিপরীতে দ্রব্যের যোগান বৃদ্ধির প্রবণতার স্বল্প তাকে বোঝায়। কোন দ্রব্যের দামের শতাংশিক পরিবর্তনের চেয়ে দ্রব্যের যোগানের শতাংশিক পরিবর্তন কম হলে তা হয় স্থিতিস্থাপক যোগান। এক্ষেত্রে দ্রব্যের দাম বাড়লেও যোগান সে হারে বাড়ে না। আবার অনেক সময় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি পেলেও যোগান সম্পূর্ণ স্থির থাকে।

৫১. প্রশ্ন:- একটি দ্রব্যের দাম বাড়লে যদি অপর দ্রব্যের চাহিদা বাড়ে, তবে দ্রব্য দুটির সম্পর্ক কিরূপ-ব্যাখ্যা কর।

উত্তর:- একটি দ্রব্যের দাম বাড়লে অপর একটি দ্রব্যের চাহিদা বাড়ে তবে দ্রব্য দুটি পরস্পর পরিবর্তন দ্রব্য। সাধারণত যদি দুটি দ্রব্যের মধ্যে একটি পরিবর্তে অন্যটি ভোগ করে প্রায় সমান উপযোগ লাভ করা যায়, তবে দ্রব্য দুটিকে পরস্পর পরিবর্তন বা বিকল্পদ্রব্য বলা হয়। এ ধরনের দ্রব্যের ক্ষেত্রে একটি দাম বৃদ্ধি পেলে অপরটি চাহিদা বেড়ে যায়। যেমন:-চা ও কফির মধ্য যদি চায়ের দাম বৃদ্ধি পায়। তখন কফির চাহিদা তথা ভোগ বৃদ্ধি পাবে। এজন্য পরস্পর পরিবর্তন দ্রব্যের দাম ও চাহিদার মধ্য সমমুখী সম্পর্ক বিদ্যমান।

৫২. প্রশ্ন:- যোগান সূচি ও যোগান দেখার পার্থক্য লেখ।

উত্তর:- যোগানবিধির গাণিতিক প্রকাশ। কোন নির্দিষ্ট সময়ে বিক্রেতা বিভিন্ন দামে একটি দ্রব্যের যে পরিমাণ বিক্রয় করে তার তালিকা কে যোগানসূচি বলে। বিক্রেতা সাধারণত কম দামে একটি দ্রব্য কম পরিমাণে এবং বেশি দামে বেশি পরিমাণ দ্রব্য বিক্রয় করে। যোগানের এই নিয়মের উপর ভিত্তি করে যোগানসূচি প্রণয়ন করা হয়। অন্যদিকে, যোগান বিভেদ জ্যামিতিক রূপে যোগান রেখা বলে। অর্থাৎ দামের সাথে যোগানের সহমতিন সম্পর্ক রেখাচিত্রে দেখানো হলো তা যোগান রেখা।

৫৩. প্রশ্ন:- নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের চাহিদা রেখা কেন লম্ব অক্ষের সমান্তরাল হয়?

উত্তর:- নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের চাহিদা রেখা লম্বের অর্থের সমান্তরাল হয় সাধারণত নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম পরিবর্তন হলেও চাহিদার পরিমাণ হ্রাস বৃদ্ধি করা যায় না। অর্থাৎ দাম বাড়লেও চাহিদার পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকে।



১. ভর্তুকির প্রভাব ও যোগানের পরিবর্তন
২. আয় ও চাহিদার সম্পর্ক
৩. যোগান রেখা কেন ঊর্ধ্বগামী?
৪. চাহিদা রেখা কেন নিম্নগামী?
৫. আড়াআড়ি স্থিতিস্থাপকতা ও দ্রব্য সম্পর্ক
৬. আয়-চাহিদা সম্পর্ক ব্যাখ্যা
৭. দামের সাথে যোগানের সম্পর্ক
৮. আয়/রুচি ও প্রান্তিক উপযোগ
৯. আবহাওয়ার প্রভাব ও যোগান
১০. যোগান রেখা কি সর্বদা ঊর্ধ্বগামী?
১১. চাহিদা কি শুধু দামের উপর নির্ভর করে?
১২. কাগজ ও কলমের সম্পরক
১৩. চাহিদার হ্রাস-বৃদ্ধি ব্যাখ্যা
১৪. চলক ও ধ্রুবক — পার্থক্য
১৫. দামের সাথে যোগানের সমমুখী সম্পর্ক
১৬. চাহিদা কি শুধুই দামের উপর নির্ভর করে?
১৭. পরিবর্তন দ্রব্যের চাহিদা রেখার আকৃতি
১৮. লম্ব অক্ষে সমান্তরাল চাহিদার স্থিতিস্থাপকতা
১৯. স্বর্ণের চাহিদার স্থিতিস্থাপকতা
২০. যোগান ও মজুদের মধ্যে পার্থক্য
২১. পরিপূরক দ্রব্যের দাম ও চাহিদা
২২. সময়ের উপর যোগানের প্রভাব
২৩. উপকরণের দাম ও যোগান
২৪. প্রান্তিক উপযোগ ঋণাত্মক হলে মোট উপযোগ
২৫. অস্থিতিস্থাপক যোগান কি?
২৬. বিকল্প/পরিবর্তন দ্রব্যের সম্পর্ক
২৭. যোগান সূচি ও যোগান রেখা — পার্থক্য
২৮. নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যে চাহিদা রেখা


Leave a Comment