বাজার: অধ্যায় 4 গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর (HSC অর্থনীতি প্রথম পত্র )


  HSC অর্থনীতি প্রথম পত্র চতুর্থ অধ্যায়

           অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

                       বাজার


HSC Economics 1st Paper, Comprehension Questions and Answers of Market Chapter.

1 )প্রথম অধ্যায় মৌলিক অর্থনীতির ধারণা 

2 )দ্বিতীয় অধ্যায় উৎপাদন ব্যয় ও আয় 

3) তৃতীয় অধ্যায় উৎপাদন ব্যয় ও আয়

 

৮০. প্রশ্ন:-একচেটিয়া বাজারে বিজ্ঞাপনের প্রয়োজন হয় না কেন?

উত্তর:-একচেটিয়া কারবারি কোনো প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান না থাকায় তাকে প্রতিযোগিতামূলক বিজ্ঞাপনের জন্য কোন ব্যয় বহন করতে হয় না। একচেটিয়া বাজারে বিক্রেতা ও উৎপাদনকারী কে বিজ্ঞাপনের জন্য ব্যয় করতে হয় না। কারণ তার পণ্যের ঘনিষ্ঠ পরিবর্তন বাজারে অনুপস্থিত। তবে জনস্বার্থে তথ্যমূলক বিজ্ঞাপনের জন্য কিছু পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। তাই এ বাজারে কোন প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বিজ্ঞাপন খরচ নেই।

৮১. প্রশ্ন:-পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কেন AR-MR হয়?

উত্তর:-পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারের দাম স্থির থাকায় প্রান্তিক আয় ও গড় আয় সমান হয়। যে বাজারে অসংখ্য ক্রেতা ও বিক্রেতা দরকষাকষির মাধ্যমে বিভিন্ন দামে কোন পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করে তা পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজার। এ বাজারে চাহিদা ও দোকানের সমতা দ্বারা দাম নির্ধারিত হয়। এককভাবে কোন ক্রেতা বা বিক্রেতা দ্রব্যের দান কে প্রভাবিত করতে পারে না। ফলে বিক্রয়ের পরিমাণ বাড়লেও দ্রব্যের দাম স্থির থাকে। তাই প্রতি একক দ্রব্যের দাম একই হয় বলে গড় আয় ও প্রান্তিক আই সমান হয়। অর্থাৎ, AR-MR হয়।

৮২. প্রশ্ন:-ফার্মের স্বাভাবিক মুনাফা বলতে কী বুঝায়?

উত্তর:-ফার্মের স্বাভাবিক মুনাফার পরিমান শূন্য (০) হলে ফার্ম স্বভাবিক মুনাফা অর্জন করে। ফার্মের আয় ও ব্যয় পরস্পর সমান হলে যে মুনাফা পাওয়া যায় তাই স্বাভাবিক মুনাফা। এক্ষেত্রে মুনাফা r=TR-TC=0 হয়। অর্থাৎ শূন্য মুনাফাই স্বাভাবিক মুনাফা। সাধারণত দীর্ঘকালীন একচেটিয়া ও পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে এরুপ মুনাফা অর্জিত হয়।

৮৩. প্রশ্ন:-ফার্ম ও শিল্পের পার্থক্য দেখাও।

উত্তর:-বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ফার্ম ও শিল্পের মধ্যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। একই ব্যবস্থাপনা ও মালিকদের অধীনে কোন দ্রব্য উৎপাদনকারী স্বয়ংসম্পূর্ণ ইউনিকে ফার্ম বলে। অন্যদিকে সম জাতীয় দ্রব্য উৎপাদনে নিয়োজিত বিভিন্ন ব্যবস্থাপনার অধীনে ক্রিয়াশীল সব ফার্মের সমষ্টিকে শিল্প বলে। ফার্ম হলো একক উৎপাদক প্রতিষ্ঠান। আর একই দ্রব্য উৎপাদনকারী ফার্মগুলো নিয়ে শিল্প গঠিত হয়। একটি শিল্পে সাধারণত অনেকগুলো ফার্ম থাকে। সুতরাং বিভিন্ন কাঠামো কত পার্থক্যের কারণে ফার্ম ও শিল্প এক অর্থে ব্যবহৃত হয় না।

৮৪. প্রশ্ন:-পূর্ণ প্রতিযোগিতায় ক্রেতা ও বিক্রেতাকে দামগ্রহীতা বলা হয় কেন?

উত্তর:-পূর্ণ প্রতিযোগিতায় চাহিদা ও যোগানের ঘাট প্রতিঘাত খেয়ে বাজার দাম নির্ধারিত হওয়ায় ক্রেতা অভিজ্ঞতার দাম গ্রহীতা বলা হয়। যেখানে অসংখ্য ক্রেতা ও বিক্রেতা কোন সমজাতীয় দ্রব্য একটি নির্দিষ্ট দামে ক্রয় বিক্রয় করে থাকে তাকে পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজার বলে। এ বাজারে ক্রেতা বিক্রেতা কেউই দ্রব্যের প্রবাহিত করতে পারে না। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই বাজার সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান রাখে। ফলে একটি নির্দিষ্ট দাম কে গ্রহণ করেই ক্রয় বিক্রয় করতে হয়। তাই এ বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতার দাম গ্রহীতা বলা হয়।

৮৫. প্রশ্ন:-মনোপসনি বাজারে ক্রেতা বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করে, বিক্রেতা নয়-ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:-মনোপসনি বাজারে ক্রেতা একজন থাকায় ক্রেতাই বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করে। যে বাজারে একজন মাত্র ক্রেতা ও অসংখ্য বিক্রেতা দ্রব্যের ক্রয়-বিক্রয় করে তা মনোপসনি বাজার। এ বাজারে ক্রেতা একজন হাওয়ায় দ্রব্যের চাহিদা ও একজনের উপর নির্ভরশীল। তাই ক্রেতা চাহিদা হ্রাস বৃদ্ধির মাধ্যমে বাজার প্রবাহিত করতে পারে। এ কারণে বলা হয়মনোপসনি বাজারে ক্রেতা বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করে, বিক্রেতা নয়।

৮৬. প্রশ্ন:-একচেটিয়া কারবারি কিভাবে দামের উপর প্রভাব বিস্তার করে?

উত্তর:-একচেটিয়া কারবারে বিবেচ্য দ্রব্যের কোন নিকট পরিবর্তন না থাকায় বিক্রেতা ইচ্ছা অনুযায়ী দ্রব্যটির দাম নির্ধারণ করতে পারে। একচেটিয়া কারবারে ফার্মকে দাম সৃষ্টিকারী বলা হয়। সাধারণত একচেটিয়া কারবারে বিক্রয়চক্য দ্রব্য কেবল একটিমাত্র ফার্ম দ্বারা উৎপাদিত হয়। তাই একচেটিয়া কার বাড়ি দ্রব্যের যোগান বাড়িয়ে বা কমিয়ে দ্রব্যটির দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এভাবে একচেটিয়া কারবারি দ্রব্যের দাম পরিবর্তন করে দামের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

৮৭. প্রশ্ন:-পূর্ণ প্রতিযোগিতায় ফার্ম কে দাম গ্রহীতা বলা হয় কেন?

উত্তর:-পূর্ণ প্রতিযোগিতায় চাহিদা ও যোগানের ঘাত প্রতিঘাতে বাজার দাম নির্ধারিত হওয়ায় ক্রেতাও বিক্রেতাকে দাম গ্রহীতা বলা হয়। যেখানে অসংখ্য ক্রেতা ও বিক্রেতা কোন সম জাতীয় দ্রব্য একটি নির্দিষ্ট দামে ক্রয় বিক্রয় করে থাকে তাকে পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজার বলে। এ বাজারে ক্রেতা অভিক্রেতা কেউ দ্রব্যের দাম কে প্রভাবিত করতে পারে না। ক্রেতা- বিক্রেতা উভয়ই বাজার সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান রাখে। ফলে একটি নির্দিষ্টতা আমকে গ্রহণ করেই ক্রয় বিক্রয় করতে হয়। তাই এ বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতাকে দাম প্রহীতা বলা হয় ।

৮৮. প্রশ্ন:-ফার্ম এবং শিল্প কি একই? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর:-ফার্ম ও শিল্প এক নয়, এদের মধ্যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। একই ব্যবস্থাপনা ও মালিকানার অধীনে কোন দ্রব্য উৎপাদনকারী স্বয়ংসম্পূর্ণ ইউনিটকে ফার্ম বলে। অন্যদিকে, সম জাতীয় দ্রব্য উৎপাদনে নিয়োজিত বিভিন্ন ব্যবস্থাপনার অধীনে ক্রিয়াশীল সব ফার্মের সমষ্টিকে শিল্প বলে। ফার্ম হল একক উৎপাদক প্রতিষ্ঠান। সে হিসেবে এটি শিল্পের সদস্য। অন্যদিকে, একই দ্রব্য উৎপাদনকারী ফার্মগুলো নিয়ে শিল্প গঠিত হয়। একটি শিল্পে সাধারণত অনেকগুলো ফার্ম থাকে। সুতরাং, বিভিন্ন কাঠামো গত পার্থক্যের কারণে শিল্প এক নয়।

৮৯. প্রশ্ন:-একচেটিয়া বাজারে AR-MR--ব্যাখ্যা কর।

উত্তর:-একচেটিয়া বাজারের গড় আয়ু প্রান্তিক আয় অপেক্ষা বেশি হয়। একচেটিয়া বাজারে বিক্রেতা ইচ্ছে অনুযায়ী দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কিন্তু বিক্রয়ের পরিমাণ বাড়াতে হলে তাকে দাম কমাতে হয়। তাই বিক্রয় বৃদ্ধির সাথে গড় আয় ও প্রান্তিক আয় উভয় কমতে থাকে। কিন্তু প্রান্তিক আয় গড় আয় অপেক্ষা অধিকারে কমে। এ কারণে একচাটিয়া বাজারে গড়াই প্রান্তিক আয় অপেক্ষা বেশি হয়। অর্থাৎ AR>MR হয়।

৯০. প্রশ্ন:-একচেটিয়া বাজারে বিক্রেতাকে দামের স্রষ্টা বলা হয় কেন?

উত্তর:-একচেটিয়া বাজারের বিবেচ্য য়দ্রব্যের কোন নিকট পরিবর্তন না থাকায় বিক্রেতা ইচ্ছা অনুযায়ী দ্রব্যটির দাম নির্ধারণ করতে পারে। সাধারণত একচেটিয়া কারবারে বিক্রয় যোগ্য দ্রব্য কেবল একমাত্র ফার্ম দ্বারা উৎপাদিত হয়।

৯১. প্রশ্ন:-একচেটিয়া বাজারে AR / গড় আয় রেখা বাম দিকে নিম্নগামী কেন?

উত্তর:-একচেটিয়া বাজারে গড় আয় রেখা এবং ফার্মের চাহিদা রেখা ও ক্রেতার চাহিদা রেখা সামর্থক হওয়ায় AR রেখা নিম্নগামী হয়। অপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কোন ফার্ম বা বিক্রেতাকে বেশি পরিমাণ দ্রব্য বিক্রয় করতে হলে তা কম দামে বিক্রয় করতে হয়। অন্য কথাই দ্রব্যের যোগান বৃদ্ধি করতে গেলে দাম কমাতে হয়। এজন্য এরোবাজারে যত বেশি পরিমাণ দ্রব্য বিক্রয় করা হয়, দাম বা গড় আয় ততই হ্রাস পায়। এর পরিস্থিতিতে ফার্ম বা বিক্রেতার গড় আয় তথা AR রেখা নিম্নগামী হয়।

৯২. প্রশ্ন:-বাংলাদেশের মোবাইল ফোনের বাজার কে অলিগোপলি বাজার বলা যায়--ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:-মোবাইল ফোনের বাজারে কতিপয় বিক্রেতা থাকায় একে অলিগোপলি বাজার। বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের বাজারে বিক্রেতা সংখ্যা একের অধিক কিন্তু অসংখ্য নয়। যেমন-নোকিয়া, স্যামস্যাং, শাওমি, অ্যাপল, ইত্যাদি। এক্ষেত্রে কতিপয় কয়জন বিক্রেতা থাকায় এ বাজারকে অলিগোপোলি বাজার বলা যায়।

৯৩. প্রশ্ন:-স্থানীয় বাজারে পণ্যের দাম ও চাহিদার মধ্যে সম্পর্ক ব্যাখ্যা কর।

উত্তর:-স্থানীয় বাজারে পণ্যের দাম ও চাহিদার মধ্যে সম্পর্ক সমমুখী। দ্রব্যের বাজার কোন একটি বিশেষ এলাকা বা অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে তা স্থানীয় বাজার। যেমন-শাক সবজি, মাছ, ইট, ইত্যাদির বাজার। এ ধরনের বাজারে অধিকাংশ পণ্য পচনশীল। তাই চাহিদার সাথে সাথে এদের যোগান তেমন বৃদ্ধি করা সম্ভব হয় না। এ কারণে পণ্যের চাহিদা বাড়লে দামও বৃদ্ধি পায় এবং চাহিদা কমলে দাম ও হ্রাস পায়। অর্থাৎ দাম ও চাহিদার মধ্যে একটা সমমুখী সম্পর্ক বিরাজ করে।

৯৪. প্রশ্ন:-মনোপলি ও মনোপসনি বাজারের ধারণা পৃথক?

উত্তর:-মনোপলি ও মনোপসনি পরস্পর বিপরীত ধর্মী বাজার। যে বাজারে একটি মাত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বা একজন বিক্রেতা এবং অসংখ্য ক্রেতা থাকে তাকে মনোপলি বাজার বলে। অন্যদিকে যে বাজারে বিক্রেতার সংখ্যা অসংখ্য ক্রেতা থাকে মাত্র একজন তাই মনোপসনি বাজার।

৯৫. প্রশ্ন:- পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে চাহিদা রেখা ভূমি অফিস সামান্তরাল হয় কেন?

উত্তর:-পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে পণ্যের দাম স্থির থাকার কারণে ফার্মের চাহিদা রেখা সমান্তরাল হয়। শিল্প ক্ষেত্রে বা বাজারে নির্দিষ্ট দ্রব্যের বাজার চাহিদা ও বাজার যোগানের সমতার মাধ্যমে দাম নির্ধারিত হয়। নতুন কোন ফার্ম বাজারে প্রবেশ করলে সে বাজারে প্রচলিত দাম মেনে নেয়। কারণ সমগ্র বাজারের তুলনায় আমটি এত ক্ষুদ্র যে তার উৎপাদন সিদ্ধান্ত দ্বারা বাজার দাম কে প্রভাবিত করতে পারে না। ফলে বাজারের সর্বত্র একই মূল্য বিরাজ করে। উৎপাদনের পরিমাণ বাড়লে বা কমলেও দাম স্থির থাকে। তাই পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ফার্মেস চাহিদা রেখা ভূমি অক্ষের সামান্তরাল হয়।

৯৬. প্রশ্ন:-একচেটিয়া বাজারে যোগান রেখা পাওয়া যায় না কেন?

উত্তর:-একচেটিয়া বাজারে জোকার দেখা পাওয়া যায় না। একচেটিয়া বাজারে একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান পণ্য বা সেবা উৎপাদন করে। উৎপাদিত পণ্য বা সেবার কোন বিকল্প থাকে না। ফলে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান দ্রব্যের সরবরাহ করে থাকে। সেক্ষেত্রে একচেটিয়া প্রতিষ্ঠান দ্রব্য উৎপাদনের পরিমাণ এবং মূল্য নির্ধারণ করে। এ বাজারে কোন প্রতিযোগিতা থাকে না তাই একটা টিয়া বাজারে যোগান রেখা দেখা যায় না।

Leave a Comment