প্রথম অধ্যায়
মৌলিক অর্থনীতির ধারণা
১. প্রশ্ন:- ব্যাষ্টিক ও সামষ্টিক অর্থনীতি পরস্পর পরিপূরক-ব্যাখ্যা কর।
উত্তর:- কিছু অমিল বা বই সাদৃশ্য থাকা সত্ত্বেও ব্যাসটিকএবং সামষ্টিক অর্থনীতির পরস্পর নির্ভরশীল। ব্যষ্টিক অর্থনীতির বিষয় হলো একজন ভোক্তা বা একক ফার্মের আচরণ চাহিদা, ভোগ, সঞ্চয়, আয়, ব্যয় ইত্যাদি। অন্যদিকে সামষ্টিক অর্থনীতির বিষয় হলো একটি দেশের মোট উৎপাদন, জাতীয় আয়, মোর চাহিদা, অর্থনীতি পৃথকভাবে একটি অসম্পূর্ণ অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ। কারণ সামষ্টিক অর্থনীতি বাদ দিয়ে যেমন ব্যষ্টিক আলোচনা অসম্পূর্ণ তেমনি বাসটিকে বাদ দিয়ে সামষ্টিক আলোচনা নিরর্থক। তাই বলা যায়, ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক অর্থনীতি এক অপরের পরিপূরক।
- ভিত্তি ও সামগ্রিকতা: ব্যক্তিগত বা প্রতিষ্ঠানের আয়, উৎপাদন ও ভোগ বিশ্লেষণ (ব্যষ্টিক) থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সমষ্টিই হলো সামগ্রিক আয় বা জাতীয় উৎপাদন (সামষ্টিক) [৪]।
- নীতি নির্ধারণ: সরকার যখন সামষ্টিক নীতি (যেমন: কর হার বা সুদের হার নির্ধারণ) তৈরি করে, তখন তাকে ব্যক্তিগত ভোক্তা বা ব্যবসার আচরণ (ব্যষ্টিক) বিবেচনা করতে হয়।
- পরস্পর নির্ভরশীলতা: একটি প্রতিষ্ঠানের (ব্যষ্টিক) উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের ওপর দেশের মোট উৎপাদন (সামষ্টিক) নির্ভরশীল। আবার, দেশব্যাপী মন্দা বা মুদ্রাস্ফীতি (সামষ্টিক) একটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বা বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত (ব্যষ্টিক) পরিবর্তন করতে বাধ্য করে [২, ৪]।
- ভারসাম্য বিশ্লেষণ: একটি নির্দিষ্ট পণ্যের দাম নির্ধারণ (ব্যষ্টিক) সামগ্রিক মূল্যস্তর (সামষ্টিক) বোঝার জন্য অপরিহার্য।
২. প্রশ্ন:-অর্থনীতিতে নির্বাচনের সমস্যা দেখা দেয় কেন?
উত্তর:-অর্থনীতিতে অসীম অভাব ও সীমিত সম্পদের জন্য নির্বাচনের সমস্যা দেখা দেয়।
মানুষের অভাব অসীম। কিন্তু অভাব পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ সীমিত। তাই অভাব গুলো সম্পদের বিকল্প ব্যবহারের মাধ্যমে পূরণ করা হয়। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অভাব এবং সম্পদের বিকল্প ব্যবহার কিভাবে ঠিক করা হবে তা নির্বাচন করতে হয়। ফলে নির্বাচন সমস্যা উদ্ভব ঘটে।
৩. প্রশ্ন:-দুষ্প্রাপ্যতার কারণে নির্বাচনের সমস্যাটি সৃষ্টি হয়-ব্যাখ্যা কর।
উত্তর:-দুষ্পাপ্য সম্পদ দিয়ে সব অভাব পূরণ করা যায় না বলে নির্বাচন সমস্যা সৃষ্টি হয়। অভাবের তুলনায় সম্পদের স্বল্পতায় হলো দুষ্প্রাপ্যতা। মানুষের অভাব অসীম, কিন্তু অভাব পূরণের সম্পদ সীমিত। আবার মানুষের জীবনের সব অভাবের গুরুত্ব একই নয়। মানুষকে একাধিক অভাবের মধ্য থেকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ অভাব নির্বাচন করতে হয়। এইজন্যই দুষ্প্রাপ্য সম্পদ দিয়ে অভাব পূরণের ক্ষেত্রে নির্বাচন সমস্যা সৃষ্টি হয়।
৪. প্রশ্ন:-সব অভাব একসাথে পূরণ করা সম্ভব হয় না কেন?
উত্তর:-অভাবের তুলনায় সম্পদ সীমিত হাওয়াই অর্থনীতিতে সব অভাব একসাথে পূরণ করা সম্ভব না। মানুষের অভাব অসীম। এজন্য একটি অভাব পূরণ হলে আরেকটি অভাব নতুনরূপে দেখা দেয়। এসব নতুন অভাব সম্পদের সাহায্য পূরণ সীমিত। এই সীমিত সম্পদ দিয়ে মানুষ তার অসংখ্য অভাবের সামান্যই মেটাতে পারে। এজন্য মানুষের পক্ষে সব অভাব একসাথে পূরণ করা সম্ভব হয় না।
৫. প্রশ্ন:-ব্যষ্টিক এবং সামষ্টিক অর্থনীতির পার্থক্য দেখাও।
উত্তর:-ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক অর্থনীতি পরস্পরের সম্পর্কযুক্ত হলেও এদের মধ্যে কিছু পার্থক্য আছে। অর্থনীতির যে শাখায় অর্থব্যবস্থার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র একক বা আচরণ বিশ্লেষণ করা হয় তা ব্যষ্টিক অর্থনীতি। অন্যদিকে অর্থনীতির যে শাখায় সামগ্রিক দিক বিশ্লেষণ করা হয় তা সামষ্টিক অর্থনীতি। ব্যষ্টিক অর্থনীতির আলোকে অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা বিশ্লেষণ করা যায় না। কিন্তু সামষ্টিক অর্থনীতির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরা যায়।
৬. প্রশ্ন: সব অভাব একসাথে পূরণ করা সম্ভব হয় না কেন?
উত্তর:-অভাবের তুলনায় সম্পদ সীমিত হওয়ায় অর্থনীতিতে সব অভাব একসাথে পূরণ করা সম্ভব হয় না। মানুষের অভাব অসীম। এজন্য একটি অভাব পূরণ করতে গেলে আরেকটি অভাব নতুন রূপে দেখা দেয়। এজন্য এসব নতুন অভাব সম্পদের সাহায্যে পূরণ করতে হয়। কিন্তু এ অসীম অভাব পূরণের জন্য প্রাপ্ত সম্পদের পরিমাণ সীমিত। এ সীমিত সম্পদ দিয়ে মানুষ তার অসংখ্য অভাবের সামান্যই মেটাতে পারে। এজন্য মানুষের পক্ষে সব অভাব একসাথে পূরণ করা সম্ভব হয় না।
৭. প্রশ্ন:-সীমাহীন অভাব ও সম্পদের দুষ্পাক্ষতার কারণেই মানুষকে নির্বাচন সমস্যায় পড়তে হয়-ব্যাখ্যা কর।
উত্তর:-সম্পদের স্বল্পতা ও অভাবের অসীমতার জন্য মানুষকে নির্বাসন সমস্যায় পড়তে হয়। অভাবের তুলনায় সম্পদের স্বল্পতায় হলো দুষ্প্রাপ্যতা। মানুষের অভাব অসীম, কিন্তু অভাব পূরণের সম্পদ সীমিত। আবার মানুষের জীবনের সব অভাবের গুরুত্ব একই নয়। মানুষকে একাধিক অভাবের মধ্য থেকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ অভাব নির্বাচন করতে হয়। এইজন্যই দুষ্প্রাপ্য সম্পদ দিয়ে অভাব পূরণের ক্ষেত্রে নির্বাচন সমস্যা সৃষ্টি হয়।
৮. প্রশ্ন:-সম্পদের ব্যক্তি মালিকানা গণতান্ত্রিক অর্থ ব্যবস্থায় শ্রেণী বৈষম্য সৃষ্টি করে-ব্যাখ্যা কর।
উত্তর:-গণতন্ত্রের দেশের সম্পদের বেশিরভাগ খুঁজি পার্টি ও উদ্যোক্তাদের মালিকানায় থাকে
বলে শ্রেণী বৈষম্যের সৃষ্টি হয়। পুঁজি পাতিরা দরিদ্র শ্রমিকদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কম মজুরিতে তাদের কাজে নিয়োজিত করে। এভাবে তারা মজুরির উদ্বৃত্ত অংশ আত্মসাৎ করে। এ প্রক্রিয়ায় একদিকে পুঁজিপাতিরা অধিকাংশ সম্পদের মালিক হয়ে ওঠে অন্যদিকে দরিদ্র শ্রমিকরা আরও দরিদ্র হয়ে পড়ে। এর ফলে সমাজের ধনী ও দরিদ্র শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে এবং শ্রেণী বৈষম্য দেখা দেয়।
শ্রেণী বৈষম্য সৃষ্টির কারণসমূহ:
সম্পদ কেন্দ্রীকরণ: ব্যক্তিগত মালিকানায় ধনিক শ্রেণী সম্পদ কুক্ষিগত করে, ফলে ধনীরা আরও ধনী এবং দরিদ্ররা আরও দরিদ্র হতে থাকে
উৎপাদন ও মুনাফা: উৎপাদনের মূল লক্ষ্য থাকে ব্যক্তিগত মুনাফা, জনকল্যাণ নয়। এতে মালিক শ্রেণী শ্রমিকদের মজুরি কম দিয়ে নিজেরা মুনাফা বাড়ায়, যা বৈষম্য বাড়ায়
সুযোগের অসমতা: সম্পদশালীদের ভালো শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাণিজ্যের সুযোগ থাকে, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে
বাজার নিয়ন্ত্রণ: বড় ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানগুলো বাজার নিয়ন্ত্রণ করে, যা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোক্তাদের ওপর শোষণ চালায়
9. প্রশ্ন:-নির্বাচনের সমস্যা উদ্ভবের কারণ কী?
উত্তর:-অর্থনীতিতে অসীম অভাব ও সীমিত সম্পদ নির্বাচন সমস্যা উদ্ভবের প্রধান কারণ। মানুষের অভাব অসীম। কিন্তু অভাব পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ সীমিত। তাই অভাবের গুরুত্ব অনুসারে প্রয়োজনীয় অভাব গুলো সম্পদের বিকল্প ব্যবহারের মাধ্যমে পূরণ করা হয়। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অভাব এবং সম্পদের বিকল্প ব্যবহার কিভাবে করা হবে তা নির্বাচন করতে হয় ফলে নির্বাচনের সমস্যা উদ্ভব ঘটে।
১০. প্রশ্ন:-ধণতান্ত্রিক/পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থায় কিভাবে দ্রব্যের দাম নির্ধারিত হয়?
উত্তর:-পুঁজি বাদী অর্থব্যবস্থায় চাহিদা ও যোগানের ঘাত-প্রতিঘাত দাঁড়া দাম নির্ধারিত হয়। পুঁজিবাদী অর্থ ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো চাহিদা ও যোগানের ঘাত প্রতিঘাত দ্বারা দাম নির্ধারিত হওয়া। এটি স্বয়ংক্রিয়তা আমরা অবস্থার নামে পরিচিত। এ পদ্ধতিতে দ্রব্যের চাহিদা অপেক্ষা যোগান বেশি হলে দাম কমে। আবার চাহিদা তুলনায় যোগান কম হলে গ্রুপের দাম বাড়ে। এভাবে চাহিদা ও যোগানের ঘাত প্রতিহাতের ফলে সে যেখানে চাহিদা ও যোগান পরস্পর সমান হয়, সেখানে দ্রব্যের দাম নির্ধারিত হয়।
দাম নির্ধারণের প্রক্রিয়াটি নিচে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হলো:
চাহিদা ও যোগানের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া: যদি কোনো দ্রব্যের চাহিদা বাড়ে কিন্তু যোগান আগের মতোই থাকে, তবে দ্রব্যটির দাম বেড়ে যায় বিপরীতক্রমে, যোগান যদি চাহিদার তুলনায় বেশি হয়, তবে দাম কমে যায়
ভারসাম্য মূল্য (Equilibrium Price): বাজার যে নির্দিষ্ট দামে ক্রেতা ও বিক্রেতা পণ্য বিনিময় করতে সম্মত হয়, তাকে ভারসাম্য মূল্য বলে
প্রতিযোগিতা: পুঁজিবাদী বাজারে বিক্রেতাদের মধ্যে প্রবল প্রতিযোগিতা থাকে, যা দামকে সাশ্রয়ী রাখতে বা মানের ওপর ভিত্তি করে দাম নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
মুনাফা অর্জন: উৎপাদকরা তাদের পণ্য উৎপাদন খরচ ও কাঙ্ক্ষিত মুনাফা যোগ করে দাম নির্ধারণ করে, কিন্তু চূড়ান্ত দামটি চাহিদার ওপর নির্ভর করে
মুক্ত বাজার: পণ্য উৎপাদন ও বিক্রয়ে উদ্যোক্তারা সম্পূর্ণ স্বাধীন থাকে, যা পণ্যের দাম দ্রুত পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করে
১১. প্রশ্ন:-দুষ্প্রাপ্যতা ও নির্বাচন কিভাবে সম্পর্কিত- ব্যাখ্যা কর?
উত্তর:-অর্থনীতিতে দূরস্পাপতা ও নির্বাচন ধারণা দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও এদের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান। মানুষের সব অর্থনৈতিক সমস্যার মূলে রয়েছে দুষ্প্রাপ্যতা ও নির্বাচন। মানুষের অসংখ্য অভাবের তুলনায় সম্পদের সীমাবদ্ধতাই হল দুষ্প্রাপ্যতা। অপরদিকে, অসংখ্য অভাবের মধ্যে থেকে গুরুত্ব অনুসারে কিছু অভাবের বাছাই হলো নির্বাচন। তাই মানুষকে সম্পদের দূরুষ্প্রাপ্যতার জন্যই অসীম অভাবকে তার মাত্রা অনুসারে নির্বাচন করতে হয়।
১২. প্রশ্ন:-সম্পদের ব্যক্তি মালিকানা গণতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় শ্রেণী বৈষম্য সৃষ্টি করে-ব্যাখ্যা করো।
উত্তর:-ধণতান্ত্রিক অর্থ ব্যবস্থায় দেশের সম্পদের বেশিরভাগই কিছু পুঁজি পাতি ও উদ্যোক্তাদের মালিকানায় থাকে বলে শ্রেণী বৈষম্যর সৃষ্টি হয়। পুঁজি পাতিরা দরিদ্র শ্রমিকদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কম মজুরিতে তাদের কাজে নিয়োজিত করে এবং মজুরির উদ্বৃত্ত অংশ আত্মসাৎ করে। এ প্রক্রিয়ায় একদিকে পুঁজিবাতিরা যেমন অধিক ধন সম্পদের মালিক হয়ে ওঠে, অন্যদিকে দরিদ্র শ্রমিকরা আরও দরিদ্র হয়েও পড়ে। এর ফলে সমাজের ধনী ও দরিদ্র শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে এবং শ্রেণী বৈষম্য দেখা দেয়।
১৩. প্রশ্ন:-সম্পদের স্বল্পতা কেন মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা?
উত্তর:-অসীম অভাবের তুলনায় সম্পদের স্বল্পতার কারণে মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যার উদ্ভব হয়। মানুষের মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা হলো-কি উৎপাদন করতে হবে, কিভাবে উৎপাদন করতে হবে, এবং কার জন্য উৎপাদন করতে হবে। আর এই সমস্যাগুলো উদ্ভবের কারণ হলো মানুষের অসীম অভাবে তুলনায় সম্পদের স্বল্পতা বা দুষ্প্রাপ্যতা। সম্পদ যদি অসীম হয় তাহলে মানুষের কোন সমস্যাই সৃষ্টি হতো না। তাই সম্পদের স্বল্পতা মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা।
১৪. প্রশ্ন:-সুযোগ ব্যয় বলতে কী বোঝায়?
উত্তর:- একটি দ্রব্য পাওয়ার জন্য অন্য দিকে ত্যাগ করতে হয় এই ত্যাগকৃত পরিমাণই হলো সুযোগ ব্যয়। পূর্ণনির্বাচন সমস্যা থেকেই সুযোগ ব্যয়ের ধারণার উদ্ভব। সুযোগ ব্যয়কে দুটি দ্রব্যের পারস্পরিক বিনিময়েও বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করলে 10 কুইন্টাল ধান উৎপাদন করা যায়। আবার পাট চাষ করলে পাঁচ কুইন্টাল পাট উৎপাদন করা যায়। এক্ষেত্রে ধান উৎপাদন করলে ১০ কুইন্টাল ধানের সুযোগ ব্যয় হবে ৫ কুইন্টাল পাট।
১৫. প্রশ্ন:-মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা কেন উদ্ভব হয়?
উত্তর:- সম্পদের স্বল্পতা ও অভাবের অসীমতা থেকে মৌলিক অর্থনীতির সমস্যার উদ্ভব হয়। মানুষের মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা গুলো হল-কি উৎপাদন করতে হবে, কিভাবে উৎপাদন, করতে হবে এবং কার জন্য উৎপাদন করতে হবে এই সমস্যাগুলো উদ্ভবের কারণ হলো মানুষের অসীম অভাবে তুলনায় সম্পদের স্বল্পতা বা দুষ্প্রাপ্যতা। যদি সম্পদ অসীম হত এবং মানুষের অভাব সীমিত হতো তাহলে মানুষের জন্য সবকিছুই উৎপাদন করা যেত। আর কোন সমস্যা সৃষ্টি হতো না তাই বলা যায় সম্পদের সর্বদা ও অসীম অভাবের কারণে মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যার উদ্ভব হয়।
১৬. প্রশ্ন:-ধনতান্ত্রিক অর্থ ব্যবস্থার সাথে স্বয়ংক্রিয় দাম ব্যবস্থার সম্পর্ক কিরূপ?
উত্তর:-গণতান্ত্রিক অর্থ ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয় দাম ব্যবস্থা বিদ্যমান। বাজারে কোনো পণ্যের যোগান অপেক্ষা চাহিদা বেশি হলে দাম বৃদ্ধি পাবে। আর চাহিদা কম হলে দাম হ্রাস পাবে। অর্থনীতিতে এরূপ দাম ব্যবস্থাকে স্বয়ংক্রিয় দাম ব্যবস্থা বলে। গণতন্ত্রের সরকার বা অন্য কেউ দাম নিয়ন্ত্রণ করে না। বরং ক্রেতা বিক্রেতার পারস্পরিক ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার দ্বারা বাজার দাম নির্ধারিত হয়। অর্থাৎ ধনতন্ত্রের স্বয়ংক্রিয় দাম ব্যবস্থার দ্বারা বাজার পরিচালিত হয়। সুতরাং বলা যায়, ধণতন্ত্রের সাথে স্বয়ংক্রিয় দাম ব্যবস্থার একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হয়েছে ।
১৭. প্রশ্ন:-উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা বলতে কী বুঝায়?
উত্তর:-বিদ্যমান প্রযুক্তি ও নির্দিষ্ট পরিমাণ উপকরণ দ্বারা উৎপাদিত দুটি দ্রব্যের সম্ভাব্য বিভিন্ন সংমিশ্রণে যে রেখার বিভিন্ন বিন্দুতে নির্দেশ করা হয় তাকে উৎপাদন সম্ভাবনা দেখা বলে। মনে করি, একটি সমাজ তার সীমাবদ্ধ সম্পদের সাহায্যে এক লক্ষ বই অথবা এক কোটি কলম তৈরি করতে পারে। সমাজ ইচ্ছা করলে কলম উৎপাদন হ্রাস করে বই উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারে। আবার একই পরিমাণ সম্পদের সাহায্যে বই ও কলমের বিভিন্ন সংমিশ্রণ উৎপাদন করতে পারে। এভাবে সীমিত সম্পদের সাহায্যে দুটি দ্রব্যের বিভিন্ন সংমিশ্রণ উৎপাদন সম্ভাবনা রেখার সাহায্যে দেখানো যায়।
১৮. প্রশ্ন:-অর্থনীতিতে সকল অভাব একসাথে পূরণ করা সম্ভব হয় না কেন?
উত্তর:-অভাবের তুলনায় সম্পদ সীমিত হওয়ায় অর্থনীতিতে সকল অভাব একসাথে পূরণ হওয়া সম্ভব না। অসীম অভাব পূরণের জন্য মানুষ প্রয়োজনীয় সম্পদ সীমিত। সৃষ্টির আদিকাল থেকে আজ পর্যন্ত সমাজে প্রতিটি মানুষ অভাবের সাথে সংগ্রাম করে আসছে। একটি অভাব পূরণ হলে আরেকটি অভাব নতুনরূপে দেখা দেয়। মানুষ এসব নতুন অভাব সম্পদের সাহায্যে পূরণ করে। কিন্তু অসীম অভাব পূরণের জন্য প্রাপ্ত সম্পদের পরিমাণ সীমিত। সীমিত এ সম্পদ নিয়ে মানুষ তার অসংখ্য অভাবের সামান্যই মেটাতে পারে। এজন্য মানুষের পক্ষে সব অভাব একসাথে পূরণ করা সম্ভবপর হয় না।
১৯. প্রশ্ন:-মিশ্র অর্থব্যবস্থায় মূল্য কিভাবে নির্ধারিত হয়?
উত্তর:-মিশ্র অর্থব্যবস্থায় সাধারণত স্বয়ংক্রিয় দাম ব্যবস্থা বাজার মূল্য নির্ধারিত হয়। তবে মূল্য নির্ধারণের মুদ্রা স্ফিতি বা মুদ্রা সংকোচনের সময় সরকারি হস্তক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়। মিশ্র অর্থব্যবস্থায় ক্রেতা বিক্রেতার পারস্পরিক ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়ার দ্বারা বাজার দাম নির্ধারিত হয়। এক্ষেত্রে বাজার চাহিদা ও যোগান ভূমিকা রাখে। দ্রব্যের দাম তার চাহিদা ও যোগান দ্বারা নির্ধারিত হলেও দামস্তরের অতিরিক্ত ঊর্ধ্বগতি সরকারি হস্তক্ষেপ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এছাড়া অত্যাবশ্যকীয় দ্রব্যের দাম সরকারি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। অর্থাৎ মিশ্র অর্থব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয় দাম ব্যবস্থার মাধ্যমে দাম নির্ধারিত হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে, সরকারি হস্তক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়।
২০. প্রশ্ন:-উৎপাদন সম্ভাবনা রেখাকে সীমান্ত রেখা বলা হয় কেন?
উত্তর:-উৎপাদন সম্ভাবনা রেখার বাইরে উৎপাদন করা সম্ভব নয় বলে এ রেখা কে সীমান্ত রেখা বলা হয়। উৎপাদন সম্ভাবনা রেখার ভেতরের বিন্দুতে সম্পদের পূর্ণ ব্যবহার করা হয় না। অন্যদিকে উৎপাদন সম্ভাবনা রেখার উপরের বিন্দুতে সম্পদের দক্ষ ব্যবহার নির্দেশ করে। উক্ত বিন্দুতে সম্পদের পূর্ণ ব্যবহার হয়। এ রেখার উপরের বিন্দুই অধিক কাম্য। কিন্তু এ রেখার বাহিরে উৎপাদন করা সম্ভব নয়। তাই উৎপাদন সম্ভাবনা রেখাকে সীমান্ত রেখা বলা হয়।
২১. প্রশ্ন:-নির্দেশ মূলক অর্থব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয় দাম ব্যবস্থা অকার্যকর কেন?
উত্তর:-নির্দেশমূলক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনকারী ও ভোক্তার স্বাধীনতা না থাকায় স্বয়ংক্রিয় দাম ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ে। যে অর্থ ব্যবস্থায় উৎপাদনের উপকরণসমূহের রাষ্ট্রীয় মালিকানা এবং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে বিদ্যমান তার নির্দেশমূলক অর্থব্যবস্থা। এ ধরনের অর্থ ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও ভোগের স্বাধীনতা অনুপস্থিত থাকে। উৎপাদন, ভোগ ও পণ্যের দাম রাষ্ট্র কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়। ফলে ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের সুযোগ থাকে না। তাই নির্দেশমূলক অর্থে ব্যবস্থায় চাহিদা ও যোগানের প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে দাম নির্ধারিত হয় না। এজন্য এ অর্থব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয় দাম ব্যবস্থা অকার্যকর হয়।
২২. প্রশ্ন:-উৎপাদন সম্ভাবনা রেখার সাহায্যে কিভাবে সুযোগ দেয় নির্ণয় করা হয়?
উত্তর:-উৎপাদন সম্ভাবনা রেখার দুইটি দ্রব্যের সংমিশ্রণে সুযোগ ব্যয় নির্ণয় করা যায়। উৎপাদন সম্ভাবনা রেখার মাধ্যমে দুটি দ্রব্যের বিভিন্ন সংমিশ্রণ দেখানো হয়। এই সংমিশ্রণের একটি দ্রব্য উৎপাদন করতে অপর দ্রব্যের কতটুকু ছাড়তে হবে তা পাওয়া যায়। এটাই সুযোগ ব্যয় কে চিত্রে প্রকাশ করে। আর এই দুই এর পার্থক্যই সুযোগ ব্যয়কে নির্দেশ করে। আর উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা থেকে সুযোগ ব্যয় নির্ণয় করা যায়।
২৩. প্রশ্ন:-মানুষের অভাব অসীম-ব্যাখ্যা কর।
উত্তর:-মানুষকে আনন্দ বা তৃপ্তি দেয় এমন বস্তুগত অথবা অবস্তুগত দ্রব্য ও সেবা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কে অভাব বলে। মানুষের অসীম অভাব। মানুষের একটি অভাব পূরণ হলে নতুন নতুন অভাব দেখা দেয়। যেমন:-খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ইত্যাদি মানুষের জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় অভাব। মানুষের এসব অভাব পূরণ হলে তারা উন্নত জীবন যাপন করতে চায়। এভাবে মানুষের অভাবের শেষ নেই। তাই বলা হয়, মানুষের অভাব অসীম।
২৪. প্রশ্ন:-ন্যায়বিচার ও ইনসাফ পূর্ণ বন্টন ব্যবস্থা ইসলামিক অর্থ ব্যবস্থার স্বাতন্ত্র্য-কেন?
উত্তর:-ইসলামী অর্থব্যবস্থায় সম্পদের বন্টন ন্যায় বিচার ও ইনসাফপূর্ণ। ইসলামী অর্থনীতিতে ন্যায়বিচার ও সম্পদের ইনসাফপূর্ণ বন্টন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন, সম্পদ যেন তোমাদের ধনীদের মধ্যে আবর্তিত না হয়। (আল কুরআন-৫৯:৭) এ লক্ষ্যে ধনীদের নিকট থেকে আদায় করে তা দরিদ্র জনগণের মধ্যে বন্টন করার ব্যবস্থা করা। যেমন যাকাত, সদকাহ, ফিতরা, জিজিয়া, ওরশ প্রভৃতির বিধান রাখা হয়েছে। ফলে গরিব মিসকিন দাস রিনগ্রস্থ ও এতিমরা উপকৃত হয়। তাই বলা যায়, ন্যায় বিচার ও ইনসাফপূর্ণ বণ্টন ব্যবস্থা ইসলামী অর্থব্যবস্থার স্বাতন্ত্র্য।
- ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক অর্থনীতির ধারণা
- ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক অর্থনীতির পারস্পরিক পরিপূরকতা
- ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক অর্থনীতির মৌলিক পার্থক্য
- অর্থনীতিতে নির্বাচনের সমস্যার উদ্ভব
- দুষ্প্রাপ্যতার ধারণা ও তার তাৎপর্য
- দুষ্প্রাপ্যতার কারণে নির্বাচন সমস্যার সৃষ্টি
- মানুষের অভাব কেন অসীম
- সব অভাব একসাথে পূরণ না হওয়ার কারণ
- সীমিত সম্পদ ও অসীম অভাবের দ্বন্দ্ব
- নির্বাচনের সমস্যা সৃষ্টির মূল কারণ
- দুষ্প্রাপ্যতা ও নির্বাচনের পারস্পরিক সম্পর্ক
- সুযোগ ব্যয় (Opportunity Cost) ধারণা
- উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা (PPC) কী
- উৎপাদন সম্ভাবনা রেখাকে সীমান্ত রেখা বলা হয় কেন
- PPC-এর সাহায্যে সুযোগ ব্যয় নির্ণয়
- মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা ও তার কারণ
- ধনতান্ত্রিক/পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য
- স্বয়ংক্রিয় দাম ব্যবস্থা কী
- ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় দাম নির্ধারণ প্রক্রিয়া
- নির্দেশমূলক অর্থব্যবস্থায় দাম ব্যবস্থা কেন অকার্যকর
- মিশ্র অর্থব্যবস্থায় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি
- সম্পদের ব্যক্তি মালিকানা ও শ্রেণী বৈষম্য
- ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় শ্রেণী বৈষম্যের সৃষ্টি
- ইসলামী অর্থব্যবস্থার ন্যায়ভিত্তিক বণ্টন ব্যবস্থা
- যাকাত ও সম্পদের সুষম বণ্টনের ভূমিকা
- বিভিন্ন অর্থব্যবস্থার তুলনামূলক ধারণা
- অর্থনৈতিক সমস্যায় সরকারের ভূমিকা
- চাহিদা ও যোগানের ভারসাম্য ও বাজার দাম
✦ মৌলিক কি-ওয়ার্ড
- অর্থনীতি
- মৌলিক অর্থনীতি
- ব্যষ্টিক অর্থনীতি
- সামষ্টিক অর্থনীতি
- দুষ্প্রাপ্যতা
- নির্বাচন সমস্যা
- অসীম অভাব
- সীমিত সম্পদ
✦ তত্ত্ব ও ধারণা
- সুযোগ ব্যয় (Opportunity Cost)
- উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা (PPC)
- স্বয়ংক্রিয় দাম ব্যবস্থা
- চাহিদা ও যোগান
- সীমান্ত রেখা
✦ অর্থব্যবস্থা
- ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা
- পুঁজিবাদ
- নির্দেশমূলক অর্থব্যবস্থা
- মিশ্র অর্থনীতি
- ইসলামী অর্থব্যবস্থা
- সম্পদের সুষম বণ্টন
- শ্রেণী বৈষম্য
✦ শিক্ষা ও পরীক্ষা সম্পর্কিত
- HSC অর্থনীতি ১ম পত্র
- একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণি অর্থনীতি
- অনুধাবনমূলক প্রশ্ন
- সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
- বোর্ড পরীক্ষার সাজেশন

Leave a Comment