HSC 2025 Barisal Board Bangla 2nd Paper Question & Solution
এইচএসসি ২০২৫ বাংলা ২য় পত্র (বরিশাল বোর্ড) প্রশ্ন ও সমাধান টেক্সট আকারে সুন্দরভাবে গুছিয়ে দেয়া হলো।
এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৫
বরিশাল বোর্ড
বাংলা দ্বিতীয় পত্র
বিষয় কোড: ২৩৭
সময়-৩ ঘণ্টা পূর্ণমান-১০০
এইচএসসি বরিশাল বোর্ড ২০২৫ বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন (ব্যাকরণ অংশ)
ক বিভাগ ব্যাকরণ
মান ৩০
১। ক) ম-ফলা উচ্চারণের পাঁচটি নিয়ম উদাহরণসহ লেখ।
১. শব্দের আদ্য ব্যঞ্জনবর্ণে ‘ম’ ফলা যুক্ত হলে সাধারণত সেই ‘ম’ অনুচ্চারিত থাকে। যেমন: স্মরণ (শঁরোন্), শ্মশান (শশান্)।
২. শব্দের মধ্যে বা শেষে ‘ম’ ফলা যুক্ত হলে সংযুক্ত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়ে থাকে। যেমন: ছদ্ম (ছদ্ দোঁ), পদ্ম (পদ্ দোঁ), রশ্মি (রোশ্ শিঁ)।
৩. ণ, ন, ল, গ, ঙ, ট, ম – এ বর্ণগুলোর সঙ্গে ম-ফলা যুক্ত হলে ‘ম’-এর উচ্চারণ বজায় থাকে। যেমন: যুগ্ম (জুগ্ মো), জন্ম (জন্ মো), গুল্ম (গুল্ মো)।
৪. যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে সংযুক্ত ‘ম’ ফলার উচ্চারণ হয় না। যেমন: সূক্ষ্ম > শুক্খোঁ, লক্ষ্মণ (লোক্ খোঁন্), যক্ষ্মা (জক্ খাঁ)।
৫. ‘ম’ ফলা যুক্ত কতিপয় সংস্কৃত শব্দের উচ্চারণ সংস্কৃত রীতি অনুযায়ী হয়ে থাকে। যেমন: কুষ্মাণ্ড (কুশ্ মান্ ডো), সুস্মিতা (শুশ্ মিতা)।
অথবা, খ) যে-কোনো পাঁচটি শব্দের উচ্চারণ লেখ:
প্রদত্ত শব্দ =>শুদ্ধ উচ্চারণ
অধ্যক্ষ=>ওদ্ ধোক্ খো
একটি=>এক্ টি
গণিত=>গোনিত্
চলন্ত=>চলোন্ তো
নদী=>নোদি
বিদ্বান=>বিদ্ দান্
লাবণ্য=>লাবোন্ নো
লক্ষ্মণ=>লক্ খোঁন্।
২। ক) বাংলা বানানে ই-কার ব্যবহারের পাঁচটি নিয়ম উদাহরণসহ লেখ।
প্রমিত বাংলা বানানে ই-কার ব্যবহারের পাঁচটি নিয়ম:
১. সকল অতৎসম শব্দে ই-কার ব্যবহৃত হবে। যেমন: বাড়ি, পাখি, বেশি ইত্যাদি।
২. বিশেষণবাচক ‘আলি’ প্রত্যয়যুক্ত শব্দে ই-কার হবে। যেমন: বর্ণালি, সোনালি ইত্যাদি।
৩. ভাষা ও জাতিবাচক শব্দে ই-কার হবে। যেমন: ইরানি, জাপানি ইত্যাদি।
8. পদাশ্রিত নির্দেশক শব্দে ই-কার হবে। যেমন: মেয়েটি, বইটি, কলমটি ইত্যাদি।
৫. ক্রিয়াবাচক শব্দে ই-কার হবে। যেমন: পড়েছি, দেখেছি, করেছি ইত্যাদি।
অথবা, খ) যে-কোনো পাঁচটি শব্দের শুদ্ধ বানান লেখ:
অশুদ্ধ বানান =>শুদ্ধ বানান
বাংগালী =>বাঙালি
শ্বাশত=>শাশ্বত
দৈন্যতা =>দৈন্য/দীনতা
সন্যাসী =>সন্ন্যাসী
পুরষ্কার =>পুরস্কার
মূহুর্ত =>মুহূর্ত
ঐক্যতান =>ঐকতান
বুদ্ধিজিবি =>বুদ্ধিজীবী।
৩। ক) উদাহরণসহ ক্রিয়াপদের শ্রেণিবিভাগ আলোচনা কর।
ভাবপ্রকাশের দিক দিয়ে, বাক্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে এবং গঠন বিবেচনায় ক্রিয়াকে নানা ভাগে ভাগ করা যায়।
ক. ভাবপ্রকাশের দিক দিয়ে ক্রিয়া দুই প্রকার:
১. সমাপিকা ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে। যেমন ভালো করে পড়াশোনা করবে।
২. অসমাপিকা ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে। যেমন ভালো করে পড়াশোনা করলে ভালো ফল হবে।
অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের:
১. ভূত অসমাপিকা,
২. ভাবী অসমাপিকা
এবং ৩. শর্ত অসমাপিকা।
যথা:
ভূত অসমাপিকা:
সে গান করে আনন্দ পায়।
ভাবী অসমাপিকা:
সে গান শিখতে রাজশাহী যায়।
শর্ত অসমাপিকা:
গান করলে তার মন ভালো হয়।
খ. বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার:
১. অকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে। যেমন সে ঘুমায়। এই বাক্যে কোনো কর্ম নেই।
২. সকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে। যেমন সে বই পড়ছে। এই বাক্যে ‘পড়ছে’ হলো সকর্মক ক্রিয়া। ‘বই’ হলো ‘পড়ছে’ ক্রিয়ার কর্ম।
৩. দ্বিকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে। যেমন- শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন। এই বাক্যে ‘দিলেন’ একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া। ‘কী দিলেন’ প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম (‘বই’), আর ‘কাকে দিলেন’ প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম (‘ছাত্রকে’)।
গ. গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া পাঁচ রকম:
১. সরল ক্রিয়া:
একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে। যেমন সে লিখছে। ছেলেরা মাঠে খেলছে। এখানে লিখছে ও খেলছে এগুলো সরল ক্রিয়া।
২. প্রযোজক ক্রিয়া:
কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে। যেমন তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন; রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায় এখানে ‘করাচ্ছেন’ ও ‘খাওয়ায়’ প্রযোজক ক্রিয়া।
৩. নামক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে-আ বা-আনো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে। যেমন বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে-আনো যুক্ত হয়ে হয়। চমকানো: আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়; বিশেষণ কম শব্দের সঙ্গে-আ যুক্ত হয়ে হয় কমা: বাজারে সবজির দাম কমছে না; ধ্বন্যাত্মক ছটফট শব্দের সঙ্গে-আনো যুক্ত হয়ে হয় ছটফটানো: জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়।
৪. সংযোগ ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
করা ক্রিয়া যোগে: গান করা,
কাটা ক্রিয়া যোগে: সাঁতার কাটা,
হওয়া ক্রিয়া যোগে: উদয় হওয়া,
দেওয়া ক্রিয়া যোগে: কথা দেওয়া,
ধরা ক্রিয়া যোগে: ভাঙন ধরা।
৫. যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে। যেমন মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা ইত্যাদি।
অথবা, খ) নিম্নরেখ পাঁচটি শব্দের ব্যাকরণিক শব্দশ্রেণি নির্দেশ কর:
i) মোদের গরব মোদের আশা আ-মরি বাংলা ভাষা।
ii) হে বন্ধু, বিদায়।
iii) আমাদের ছোট গাঁয়ে ছোট ছোট ঘর।
iv) যথা ধর্ম, তথা জয়।
v) এগিয়ে চলেছে প্রতিবাদী মিছিল।
vi) আমায় যদি কান্দাও বন্ধু, তোমার কান্দন পরে।
vii) তুমি যে আমার কবিতা।
viii) প্রগাঢ় নিকুঞ্জ।
পাঁচটি শব্দের ব্যাকরণিক শব্দশ্রেণি নির্দেশ করা হলো:
i) সর্বনাম
ii) আবেগ
iii) বিশেষণ
iv) যোজক
v) বিশেষ্য
vi) অনুসর্গ
vii) সর্বনাম
viii) বিশেষণ
৪। ক) “উপসর্গের অর্থবাচকতা নেই কিন্তু অর্থদ্যোতকতা আছে”-আলোচনা কর।
উপসর্গ:
যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি করে তাকে উপসর্গ বলে।
উপসর্গের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, ‘এর কোনো অর্থবাচকতা নেই, কিন্তু অর্থদ্যোতকতা আছে।’ প্রত্যেকটি উপসর্গ মূলত এক ধরনের শব্দাংশ। এরা কোথাও পৃথকভাবে ব্যবহৃত হয় না, কিংবা এদের নিজস্ব কোনো অর্থও নেই। ধাতু বা শব্দের পূর্বে যুক্ত হয়ে এরা মূল শব্দ বা ধাতুর অর্থের পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংকোচন, সম্প্রসারণ বা তার পূর্ণতা সাধন করে। যেমন: ‘কার’ একটি শব্দ। এর সঙ্গে বিভিন্ন উপসর্গ যুক্ত হয়ে নানা নতুন শব্দ গঠিত হতে পারে-
উপসর্গ=মূল শব্দ=উপসর্গযোগে গঠিত সাধিত শব্দ
প্র+কার=>প্রকা
উপ+কার=উপকার
অধি+কার=অধিকার
অপ+কার=অপকার
বি+কার=বিকার
উপরের সাধিত শব্দগুলো থেকে প্র, উপ, অধি, অপ, বি উপসর্গগুলো পৃথক করলে তাদের আলাদা কোনো অর্থ পাওয়া যায় না। কিন্তু অন্য শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ওই শব্দগুলোকে নানা অর্থবৈচিত্র্য দান করেছে। এভাবেই নিজস্ব অর্থহীন উপসর্গ অন্য কোনো শব্দ বা ধাতুর পূর্বে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করতে পারে বলেই বলা হয়- উপসর্গের অর্থবাচকতা নেই; কিন্তু অর্থদ্যোতকতা আছে।
অথবা, খ) যে-কোনো পাঁচটি শব্দের ব্যাসবাক্যসহ সমাস নির্ণয় কর:
প্রদত্ত শব্দ => ব্যাসবাক্য = সমাসের নাম
আয়ব্যয় = আয় ও ব্যয় = দ্বন্দ্ব সমাস
সপ্তর্ষি = সপ্ত ঋষির সমাহার = দ্বিগু সমাস
রাজনীতি = রাজার নীতি = ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস
আলুনি = নয় লুনি = নঞ্ তৎপুরুষ সমাস
বিলাতফেরত = বিলাত থেকে ফেরত = পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
নদীমাতৃক = নদী মাত্য যার = বহুব্রীহি সমাস
চিরসুখী = চিরকাল ব্যাপিয়া সুখী = দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস
প্রবচন = প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রাদি সমাস।
৫। ক) অর্থানুসারে বাংলা বাক্য কত প্রকার ও কী কী? উদাহরণসহ বুঝিয়ে দাও।
বাক্য:
যে পদ বা পদ সমষ্টি দ্বারা বক্তার পূর্ণ মনোভাব প্রকাশ পায় তাকে বাক্য বলে। যেমন: আমি একাদশ শ্রেণিতে পড়ি।
অর্থগতভাবে বাংলা বাক্যসমূহকে সাধারণত সাত ভাগে বিভক্ত করা যায়। যথা-
১. বর্ণনামূলক বাক্য:
যে বাক্য যারা সাধারণভাবে কোনো কিছু বর্ণনা বা বিবৃত করা হয় তাকে বর্ণনামূলক বাক্য বলে। যেমন: গরু মাঠে ঘাস খায়। গাছে গাছে ফুল ফুটেছে। একে নির্দেশাত্মক বা বিবৃতিমূলক বাক্যও বলা হয়ে থাকে।
বর্ণনামূলক বাক্য দুরকম হয়ে থাকে। যথা-
ক. অস্তিবাচক:
যে বাক্যে কোনো ঘটনা, ভাব বা বক্তব্যের অস্তিত্ব বা হ্যাঁ-সূচক অর্থ প্রকাশ পায় তাকে অস্তিবাচক বাক্য বলে। যেমন: দিবা চুপ করে রইল।
খ. নেতিবাচক:
যে বাক্যে কোনো ঘটনা, ভাব বা বক্তব্যের না-সূচক অর্থ প্রকাশ পায় তাকে নেতিবাচক বাক্য বলে। যেমন: দিবা কোনো কথা বলল না।
২. প্রশ্নসূচক বাক্য:
যে বাক্য দ্বারা সরাসরি কোনো কিছু জানতে চাওয়া হয় তাকে প্রশ্নসূচক বাক্য বলে। যেমন: তোমার নাম কী ? তুমি কোন ক্লাসে পড়? একে প্রশ্নাত্মক বা প্রশ্নবোধক বাক্যও বলা হয়।
৩. ইচ্ছাসূচক বাক্য:
যে বাক্যে মনের ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা বা প্রার্থনা প্রকাশ পায় তাকে ইচ্ছাসূচক বাক্য বলে। যেমন: যদি দশ কোটি টাকা পেতাম। জীবনে সফল হও। একে প্রার্থনাসূচক বাক্যও বলা হয়।
৪. আজ্ঞাসূচক বাক্য:
যে বাক্যে আদেশ, নিষেধ, আবেদন, অনুরোধ ইত্যাদি বোঝায় তাকে আজ্ঞাসূচক বাক্য বলে। যেমন: ওখানে গিয়ে বসো। সদা সত্য কথা বলবে। দয়া করে কলমটি দাও।
৫. আবেগসূচক বাক্য:
যে বাক্য দ্বারা মনের আকস্মিক আবেগ বা উচ্ছ্বাস প্রকাশ পায় তাকে আবেগসূচক বাক্য বলে। যেমন: আহ! কী আরাম!এও কি সম্ভব!
৬. সংশয়সূচক বাক্য:
নির্দেশাত্মক বাক্যের বক্তব্যের বিষয় সম্পর্কে সন্দেহ, সংশয়, সম্ভাবনা, অনুমান, অনিশ্চয়তা ইত্যাদি ভাব প্রকাশ পেলে তাকে সংশয়সূচক বাক্য বলে। একে সন্দেহদ্যোতক বাক্যও বলা হয়। এ ধরনের বাক্যে হয়তো, বুঝি, বুঝিবা, সম্ভবত, বোধ হয়, থাকি, নিশ্চয় প্রভৃতি সন্দেহসূচক শব্দ ব্যবহূত হয়। যেমন: বোধ হয় আয় আর আসবেনা। সম্ভবত দিবার ব্যস্ততা বেড়েছে।
৭. কার্যকারণাত্মক বাক্য:
যে বাক্যে কোনো বিশেষ শর্তের অধীনে ক্রিয়া নিষ্পত্তি হয় তাকে কার্যকারণাত্মক বাক্য বলে। একে শর্তসূচক বাক্যও বলা হয়। যেমন: কষ্ট না করলে কেষ্ট মেলে না। নিয়মিত পড়ালেখা না করলে ভালো ফল হয় না।
অথবা, খ) নির্দেশ অনুসারে যে-কোনো পাঁচটি বাক্যান্তর কর:
প্রদত্ত বাক্য => বাক্যান্তর
i) লোকটি ধনী, কিন্তু উদার নয়। (জটিল)
=>যদিও লোকটি ধনী, তবু্ও উদার নয়।
ii) এখন খাঁটি জিনিস সহজলভ্য নয়। (অস্তিবাচক)
=>এখন খাঁটি জিনিস দুর্লভ।
iii) কিছু বলবেন না। (নির্দেশাত্মক)
=>কিছু বলতে নিষেধ করছি।
iv) বিপদে অধীর হতে নেই। (অনুজ্ঞাসূচক)
=>বিপদে অধীর হয়ো না।
v) তুমি অন্যায় কাজ করেছ। (নেতিবাচক)
=>তুমি ন্যায়সঙ্গত কাজ করোনি।
vi) যার গুণ আছে, সে বিনয়ী হয়। (সরল)
গুণী ব্যক্তিরা বিনয়ী হয়।
vii) এদেশ বড়ো বিচিত্র। (বিস্ময়বোধক)
=>কী বিচিত্র এ দেশ!
viii) সাহিত্য জীবনের স্বাভাবিক প্রকাশ। (প্রশ্নবোধক)
=>সাহিত্য কি জীবনের স্বাভাবিক প্রকাশ নয়?
৬। ক) নিচের যে-কোনো পাঁচটি বাক্য শুদ্ধ করে লেখ:
i) তিনি স্বপরিবারে ঢাকা থাকেন।
=>তিনি সপরিবারে ঢাকায় থাকেন।
ii) প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণ করাই বড় কথা।
=>প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করাই বড়ো কথা।
iii) তিনি মোকদ্দমায় সাক্ষী দেবেন।
=>তিনি মোকদ্দমায় সাক্ষ্য দেবেন।
iv) বাজারে খাঁটি গরুর দুধ দুর্লভ।
=>বাজারে গোরুর খাঁটি দুধ দুর্লভ।
v) ছেলেটি ভয়ানক মেধাবী।
=>ছেলেটি অত্যন্ত মেধাবী।
vi) কীতিবাস বাংলা রামায়ন লিখেছেন।
=>কৃত্তিবাস বাংলায় রামায়ণ লিখেছেন।
vii) সকল লোকেরাই সেখানে উপস্থিত ছিল
=>সকল লোক সেখানে উপস্থিত ছিল।
viii) দৈন্যতা প্রশংসনীয় নয়।
=>দীনতা/hদৈন্য প্রশংসনীয় নয়।
অথবা, খ) অনুচ্ছেদের অপপ্রয়োগগুলো শুদ্ধ কর:
আজিকাল বানানের ব্যাপারে সকল ছাত্ররাই অমনোযোগী। বানান শুদ্ধ করে লেখার জন্য তাহারা ত সচেষ্টিত নহেই, বরং অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, তাহারা সবাই ভুল করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
HSC ২০২৫ বরিশাল বোর্ড বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন ও সমাধান (নির্মিতি অংশ)
খ বিভাগ নির্মিতি
মান ৭০
৭। ক) যে কোনো দশটি শব্দের পারিভাষিক রূপ লেখ:
প্রদত্ত শব্দ =>পারিভাষিক রূপ
Attestation=>সত্যায়ন
Fiction=>কথাসাহিত্য/কল্পকাহিনি
Plosive=>স্পর্শবর্ণ/স্পৃষ্ট ধ্বনি
Bidderদিলাম ডাকিয়ে
Gratuity=>আনুতোষিক/পারিতোষিক
X-ray=>রঞ্জনরশ্মি
Copyright=>লেখষত্ব/স্বত্ত্ব/গ্রন্থস্বত্ব
Hygiene=>স্বাস্থ্যবিধি/স্বাস্থ্যবিদ্যা
Ratio=>অনুপাত
Dialect=>উপভাষা
Leap year=>অধিবর্ষ
Specialist=>বিশেষজ্ঞ
Equation=>সমীকরণ
Manifesto-=>ঘোষণাপত্র/ইশতাহার
Walk-out=>সভাবর্জন/ বয়কট।
অথবা, খ) নিচের অনুচ্ছেদটি বাংলায় অনুবাদ কর:
Books are men’s best companions in life. You must have very good friends but you cannot get them when you need them. They may not speak gently to you. One or two may prove false and do your much harm. But books are always ready to be by your side. Some books may make you laugh. Some other may give you much pleasure.
বঙ্গানুবাদ:
বই হলো মানুষের জীবনের উত্তম সঙ্গী। তোমার অবশ্যই অনেক ভালো বন্ধু থাকতে পারে কিন্তু তোমার প্রয়োজনের সময় তুমি তাদের নাও পেতে পারো। তারা তোমার সঙ্গে ভদ্রভাবে কথা নাও বলতে পারে। তাদের মধ্যে দু-একজন মন্দও হতে পারে এবং তোমার অনেক ক্ষতি করতে পারে। কিন্তু বই সর্বদা তোমার পাশে থাকার জন্য প্রস্তুত। কিছু বই তোমাকে হাসাতে পারে, আবার কিছু বই তোমাকে বেশ আনন্দও দিতে পারে। তাই বই ছাড়া আমরা পূর্ণতা লাভ করতে পারি না।
৮। ক) কলেজে প্রথম দিনের অনুভূতি ব্যক্ত করে একটি দিনলিপি রচনা কর। ১০
অথবা, খ) ‘খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল মেশানো ও এর প্রতিকার’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন রচনা কর।
৯। ক) জরুরি রক্তের প্রয়োজনের কথা জানিয়ে তোমার বন্ধুর নিকট একটি ই-মেইল লেখ।
অথবা, খ) সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরে ‘মাঠকর্মী’ হিসেবে চাকুরির জন্য যোগ্যতার বিবরণ দিয়ে একটি আবেদনপত্র রচনা কর।
১০। ক) সারাংশ লেখ: ১০
দুঃখ যত প্রবলভাবে মানুষের মনে আঘাত করে, সুখ ততটা করে না। সুখকে কোনো কোনো লোকে যত নিস্পৃহভাবে গ্রহণ করতে পারে, চেষ্টা করলেও দুঃখকে তত সহজে মনের গোপনে লুকিয়ে রাখতে পারে না। এ জন্য জীবনে দুঃখের মূল্য বড় বেশি। আগে দুঃখ পেতে হবে, তবেই সমস্ত অনুভূতি সজাগ ও তীক্ষ্ণ হবে। ভুল করে যে দুঃখ পায়, তাহার ভুল করা সার্থক। আর ভুল করলেও যে নির্বিকার, আত্ম-বিচার যার নাই -তার কাছে সত্য-মিথ্যা, পাপ-পুণ্য, অর্থশূন্য শব্দ ছাড়া আর কিছুই নয়। ব্যক্তিগত জীবনে ভুলের সবচেয়ে বড় সার্থকতা এখানে যে, ভুল মানুষকে দুঃখ ও অনুশোচনার আগুনে পুড়িয়ে তাকে বিশুদ্ধ করে তোলে এবং মনুষ্যত্ব সাধনের দিকে অনেক দূর অগ্রসর করে দেয়।
অথবা, খ) ভাব-সম্প্রসারণ কর:
“প্রয়োজনে যে মরিতে প্রস্তুত, বাঁচিবার অধিকার তাহারই।”
১৯। ক) সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সম্পর্কে বাবা ও মেয়ের মধ্যে সংলাপ রচনা কর। ১০
অথবা, খ) ‘স্বনির্ভরতার জন্য দেশি শিল্পের বিকাশ চাই’ শিরোনামে একটি খুদে গল্প রচনা কর।
১২। যে কোনো একটি বিষয় অবলম্বনে প্রবন্ধ রচনা কর: ২০
ক) অধ্যবসায়
খ) কম্পিউটার ও আধুনিক বিশ্ব
গ) একুশের চেতনা
ঘ) বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-গণ আন্দোলন
ঙ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প: সমস্যা ও সম্ভাবনা।

Leave a Comment